যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে তিন বিষয়
- আপডেট সময় : ১২:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়েও দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। বিষয়গুলো আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটদের।
বর্তমানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি করে আসন বৃদ্ধি করতে হবে। যদিও নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ওপর। তবে নির্বাচনী প্রচারের মূল আলোচনায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।
.
ডোনাল্ড ট্রাম্প
নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকলেও প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি বারবার ভোটারদের এমনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ব্যালটের কাগজে তাঁর নিজের নামও রয়েছে।
ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা। তবে উল্টো ফলও আসতে পারে। এতে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা এরই মধ্যে বলেছেন, কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেবেন তাঁরা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
.
জীবনযাত্রার ব্যয়
নির্বাচনী প্রচারপর্বে জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অর্ধেক বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই একই জরিপে পরিবারের প্রধান ব্যয়ের খাত হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, খাদ্য ও বাসস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন ভোটাররা।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমার্ধে রিপাবলিকানদের অন্যতম সাফল্য হলো করছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তবে একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় গত বছর অচলাবস্থার মুখে পড়েছিল সরকার।
.
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ২৮ ডলার। এক বছর আগের তুলনায় তা ১ দশমিক ২০ ডলার বেশি; আর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মুদিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।
অভিবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ের তুলনায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে আটক অভিবাসীর সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরে এই প্রথম সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক অভিবাসীদের কাউকে ছেড়ে দেয়নি। তবে মেইন, মিনেসোটা ও টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিবাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
.
চলতি বছর অভিবাসন খাতে অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকানরা এককভাবে সাত হাজার কোটি ডলারের একটি বিল পাস করেছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত বাহিনীর অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা এ অভিযোগও করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত উন্মুক্ত করার পক্ষে।
চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটনের বাড়িতে অভিযান চালান কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে। ইলহানের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তদন্তের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা।
.ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে, নারী ভোটাররা মুখে ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁর থেকে: রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ





















