ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ববিখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখেন, রকেট বানান, টেসলা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু প্রযুক্তির দুনিয়ায় বাংলাদেশ যে তাঁকে অনেক আগেই দশ গোল দিয়ে বসে আছে, সে খবর কি তিনি রাখেন? তাঁর উড়ন্ত গাড়ি বানাতে লাগে কোটি ডলারের গবেষণা, আর আমাদের রকেট রিকশাকে আকাশে তুলতে লাগে রাস্তার একটা মাঝারি আকারের গর্ত! ইলন মাস্ক তো দিবাস্বপ্ন দেখেন! আমাদের টমটম তো রোজই আকাশে ওড়ে!

ঢাকার রাস্তায় রকেট রিকশায় উঠলেই বোঝা যায়, মহাকাশ ভ্রমণের জন্য নাসায় ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। রাস্তার খানাখন্দে টমটমের ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা এমনভাবে শূন্যে ভাসেন যে মুহূর্তের জন্য মনে হয় কোনো স্পেসশিপে চড়ে বসেছেন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বুঝি ছুটিতে গেছে। অবতরণের পর অবশ্য বোঝা যায়, মহাকাশযাত্রা শেষ হলেও কোমরটা এখনো পৃথিবীতেই পড়ে আছে!

এই রকেট রিকশাগুলোই হলো আমাদের গরিবের লো বাজেটের টেসলা। ওটাকে মডিফাই করে ওড়ানো লাগবে না, ওটা এমনিই ওড়ে! তা ছাড়া ইলন মাস্ক তো জানেন, এ দেশে এই পঙ্খিরাজ চালাতে গেলে চ্যালেঞ্জ শুধু রাস্তার গর্তে নাকি। কতবার যে কারেন্টের তারে ফেঁসে যাবেন, তার হিসাব রাখে?

আর টমটমের বিশেষ ফিচার? এক চালক গর্ব করে বললেন, ‘মামা, হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি, লাগে না পেট্রল-ডিজেল!’

অবশ্য এই আকাশযাত্রার শেষ পরিণতিও কম রোমাঞ্চকর নয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যখন ভাড়ার হিসাব আসে, তখন চালক মামা একচিলতে হেসে বলবেন, ‘গরিব মানুষ মামা, দশ টাকা বাড়ায় দিয়েন!’ কারণ, জ্যাম আর তারের জালের এই অদ্ভুত দুনিয়ায় চলতে গেলে এই সামান্য বাড়তি দশ টাকার মূল্য ইলন মাস্কের কোটি ডলারের বাজেটের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।

ইলন মাস্ক মানুষকে পৃথিবীর বাইরে নিতে চান, আর আমাদের রকেট রিকশা প্রতিদিন যাত্রীকে সিটের বাইরে তুলে আবার পৃথিবীতেই নামিয়ে দেয়!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখেন, রকেট বানান, টেসলা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু প্রযুক্তির দুনিয়ায় বাংলাদেশ যে তাঁকে অনেক আগেই দশ গোল দিয়ে বসে আছে, সে খবর কি তিনি রাখেন? তাঁর উড়ন্ত গাড়ি বানাতে লাগে কোটি ডলারের গবেষণা, আর আমাদের রকেট রিকশাকে আকাশে তুলতে লাগে রাস্তার একটা মাঝারি আকারের গর্ত! ইলন মাস্ক তো দিবাস্বপ্ন দেখেন! আমাদের টমটম তো রোজই আকাশে ওড়ে!

ঢাকার রাস্তায় রকেট রিকশায় উঠলেই বোঝা যায়, মহাকাশ ভ্রমণের জন্য নাসায় ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। রাস্তার খানাখন্দে টমটমের ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা এমনভাবে শূন্যে ভাসেন যে মুহূর্তের জন্য মনে হয় কোনো স্পেসশিপে চড়ে বসেছেন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বুঝি ছুটিতে গেছে। অবতরণের পর অবশ্য বোঝা যায়, মহাকাশযাত্রা শেষ হলেও কোমরটা এখনো পৃথিবীতেই পড়ে আছে!

এই রকেট রিকশাগুলোই হলো আমাদের গরিবের লো বাজেটের টেসলা। ওটাকে মডিফাই করে ওড়ানো লাগবে না, ওটা এমনিই ওড়ে! তা ছাড়া ইলন মাস্ক তো জানেন, এ দেশে এই পঙ্খিরাজ চালাতে গেলে চ্যালেঞ্জ শুধু রাস্তার গর্তে নাকি। কতবার যে কারেন্টের তারে ফেঁসে যাবেন, তার হিসাব রাখে?

আর টমটমের বিশেষ ফিচার? এক চালক গর্ব করে বললেন, ‘মামা, হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি, লাগে না পেট্রল-ডিজেল!’

অবশ্য এই আকাশযাত্রার শেষ পরিণতিও কম রোমাঞ্চকর নয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যখন ভাড়ার হিসাব আসে, তখন চালক মামা একচিলতে হেসে বলবেন, ‘গরিব মানুষ মামা, দশ টাকা বাড়ায় দিয়েন!’ কারণ, জ্যাম আর তারের জালের এই অদ্ভুত দুনিয়ায় চলতে গেলে এই সামান্য বাড়তি দশ টাকার মূল্য ইলন মাস্কের কোটি ডলারের বাজেটের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।

ইলন মাস্ক মানুষকে পৃথিবীর বাইরে নিতে চান, আর আমাদের রকেট রিকশা প্রতিদিন যাত্রীকে সিটের বাইরে তুলে আবার পৃথিবীতেই নামিয়ে দেয়!