ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আর্সেনালের জয়, ইউনাইটেডের দুর্দশা চলছেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সেকেন্ডে বাইক চুরি করে বিক্রি হতো ৫০ হাজার টাকায় সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দুদকের ‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে’: আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভ সূর্যবংশীতে ভারতের মোহ কি শেষ? ৫ টি–টুয়েন্টিতেই একাদশে বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে বদলি ডেমরায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, বুয়েটের আবরার ফাহাদ ও সিনহা হত্যা মামলায় আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, বুয়েটের আবরার ফাহাদ ও সিনহা হত্যা মামলায় আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা—আলোচিত এই তিন মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন।

তিন মামলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ২৪ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ১ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয় ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সকালে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গুলিতে নিহত হন সিনহা। নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ডে তখন দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পৃথক ঘটনায় করা পৃথক মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। পৃথক তিন মামলায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। পৃথক তিন মামলায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল চেম্বার আদালতের রোববারের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব আলোচিত মামলা, যেসব মামলা সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করেছে—এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তার প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে তিনটি মামলা নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছেন, সেই আপিলগুলো শুনানির জন্য আমরা আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি।’

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই তিন মামলার তারিখ নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুসারে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর। বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ২৪ নভেম্বর শুরু হবে আশা করা যাচ্ছে। মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা যেটি শুনানির তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।…আমাদের প্রত্যাশার জায়গাটা হচ্ছে, এই মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে যেন শুনানি শুরু হয়।’

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‌্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের গাড়ি থামান। র‌্যাব নজরুল, তাঁর তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। এ সময়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁকে ও তাঁর গাড়িচালককেও র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সবাইকে হত্যা করে ওই রাতেই পেট কেটে এবং ইটের বস্তা বেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল ছয়জন ও পরদিন একজনের লাশ ভেসে ওঠে। সাতজন হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম। ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়, একটির বাদী নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এবং অপরটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল।

ওই দুই মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল এবং অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ৯ আসামির দণ্ড বহাল থাকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ২০১৯ সালে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন, এম মাসুদ রানা এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বহিষ্কৃত নেতা নূর হোসেনসহ দণ্ডিত আসামিরা পৃথক আপিল করেন।

একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। পরদিন সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে হত্যায় জড়িত সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট সব আসামির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পরে আপিল এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা লিভ টু আপিল করেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সাবেক পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে প্রদীপসহ আসামিরা আপিল করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, বুয়েটের আবরার ফাহাদ ও সিনহা হত্যা মামলায় আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ

আপডেট সময় : ০১:২০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা—আলোচিত এই তিন মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন।

তিন মামলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ২৪ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য ১ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয় ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সকালে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গুলিতে নিহত হন সিনহা। নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ডে তখন দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পৃথক ঘটনায় করা পৃথক মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। পৃথক তিন মামলায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। পৃথক তিন মামলায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল চেম্বার আদালতের রোববারের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব আলোচিত মামলা, যেসব মামলা সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করেছে—এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তার প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে তিনটি মামলা নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছেন, সেই আপিলগুলো শুনানির জন্য আমরা আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি।’

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই তিন মামলার তারিখ নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুসারে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর। বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ২৪ নভেম্বর শুরু হবে আশা করা যাচ্ছে। মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা যেটি শুনানির তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।…আমাদের প্রত্যাশার জায়গাটা হচ্ছে, এই মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে যেন শুনানি শুরু হয়।’

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‌্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের গাড়ি থামান। র‌্যাব নজরুল, তাঁর তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। এ সময়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁকে ও তাঁর গাড়িচালককেও র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সবাইকে হত্যা করে ওই রাতেই পেট কেটে এবং ইটের বস্তা বেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল ছয়জন ও পরদিন একজনের লাশ ভেসে ওঠে। সাতজন হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম। ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়, একটির বাদী নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এবং অপরটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল।

ওই দুই মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল এবং অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ৯ আসামির দণ্ড বহাল থাকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ২০১৯ সালে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন, এম মাসুদ রানা এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বহিষ্কৃত নেতা নূর হোসেনসহ দণ্ডিত আসামিরা পৃথক আপিল করেন।

একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। পরদিন সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে হত্যায় জড়িত সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট সব আসামির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পরে আপিল এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা লিভ টু আপিল করেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সাবেক পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে প্রদীপসহ আসামিরা আপিল করেন।