ভোলায় সালিসে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের পর পিটুনিতে কর্মী নিহত
- আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভোলায় সালিসে কথা–কাটাকাটির জেরে বিএনপির এক নেতাকে ছুরিকাঘাতের পর স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে মো. আসিফ (২৫) নামের দলটির এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজারে ওই নেতাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে এলাকাবাসী আসিফকে পিটুনি দিলে তাঁকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। আজ রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত আসিফ একই এলাকার দুলু মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একাধিক মামলা আছে। তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন। অন্যদিকে ছুরিকাঘাতের শিকার বিএনপি নেতার নাম মো. হোসেন হাওলাদার ওরফে হোসেন ম্যানেজার (৫৫)। তিনি রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হোসেনের সঙ্গে আগে থেকেই আসিফের বিরোধ ছিল। কয়েক দিন আগে আসিফকে পুলিশে ধরিয়ে দেন হোসেন। এরপর রাজনৈতিক একটি মামলায় কারাগারে যান হোসেন। সম্প্রতি হোসেন ও আসিফ জামিনে কারামুক্ত হন। গতকাল সন্ধ্যায় দুজনই আনন্দবাজারে যান। সেখানে একটি সালিসে হোসেনকে কথা বলতে দেখে আসিফ তাঁর সঙ্গে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হোসেনকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথমে বরিশাল এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। একই সময় এলাকায় হোসেনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকাবাসী আসিফকে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আজ ভোররাতের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফের মৃত্যু হয়।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ মামুন প্রথম আলোকে বলেন, হোসেনকে রাত পৌনে আটটার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়। আর আসিফকে রাত পৌনে ৯টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি মারা যান।
রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নেতা হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন আসিফ। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শুনেছেন, অভিযুক্ত আসিফকে স্থানীয় লোকজন মারধর করেছেন। আসিফ বিএনপির কর্মী ছিলেন; তবে কোনো পদে ছিলেন না।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসিফ ছুরিকাঘাত করলে পরে তাঁকে মারধর করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। নিহত আসিফের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কেউ লাশ বুঝে নিতে আসেননি।
























