ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বায়োস্কোপ থেকে ফেসবুকের যুগ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে থাকার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক টেসলার উড়ন্ত গাড়ি কীভাবে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে, কতটা বিপজ্জনক এনআরবি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছর ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল, এই বার্সেলোনাকে থামাবে কে পুলিশ ধরতে পারেনি, আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল অবশেষে মাঠে ফেরার অনুমতি পেলেন রিজওয়ান ভোলায় সালিসে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের পর পিটুনিতে কর্মী নিহত টুপটুপ রিসোর্টের মালিকসহ ২৩ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার রড ও বাটাম দিয়ে পেটানো হয় তরুণকে, হাসপাতালে মৃত্যু

পুলিশ ধরতে পারেনি, আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশ ধরতে পারেনি, তবে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা। আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আসামি ওয়াকিল। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য গত ৮ জুন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওয়াকিলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন ওয়াকিল। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ান তিনি।

একাধিক মামলা থাকায় গ্রেপ্তারের জন্য ওয়াকিলের খোঁজ করে আসছিল পুলিশ। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নগরের টাইগার পাস এলাকার নগর ভবনে ওয়াকিল অবস্থান করছেন খবর পেয়ে সেখানে তাঁকে ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না। ওয়াকিলের দুই ভাই তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।

ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করেন মেয়র। এ সময় তিনি খুলশি থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। ওই দিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। এর পরের দিন চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয় আবদুর রহিমকে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ নগর ভবনে ওয়াকিলকে ধরতে আসেনি, আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। ওয়াকিল ওখানে ছিল না। দলের দুঃসময়ে মিছিল সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াকিল। কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। গ্রেপ্তার করুক। আমি কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছি না।’

গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। মামলা নেওয়ার কারণে ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওসি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

পুলিশের ওই অভিযানের ঘটনায় পরে ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। এতে অভিযোগ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ-সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায়ও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ওয়াকিলের গ্রুপ সেভেন স্টার এবং খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল হোসেনের গ্রুপ ফাইভ স্টারের বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

সর্বশেষ ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে।

মামলার এজাহারে বাদী পাঁচটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল তাঁকে অপহরণ করে ওয়াকিলের আস্তানায় নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। আরিফের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেন আজ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ওয়াকিলের ভাই নগর ছাত্রদলের সদস্য রকি হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পুলিশ ধরতে পারেনি, আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল

আপডেট সময় : ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ ধরতে পারেনি, তবে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা। আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আসামি ওয়াকিল। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য গত ৮ জুন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওয়াকিলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন ওয়াকিল। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ান তিনি।

একাধিক মামলা থাকায় গ্রেপ্তারের জন্য ওয়াকিলের খোঁজ করে আসছিল পুলিশ। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নগরের টাইগার পাস এলাকার নগর ভবনে ওয়াকিল অবস্থান করছেন খবর পেয়ে সেখানে তাঁকে ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না। ওয়াকিলের দুই ভাই তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।

ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করেন মেয়র। এ সময় তিনি খুলশি থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। ওই দিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। এর পরের দিন চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয় আবদুর রহিমকে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ নগর ভবনে ওয়াকিলকে ধরতে আসেনি, আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। ওয়াকিল ওখানে ছিল না। দলের দুঃসময়ে মিছিল সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াকিল। কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। গ্রেপ্তার করুক। আমি কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছি না।’

গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। মামলা নেওয়ার কারণে ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওসি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

পুলিশের ওই অভিযানের ঘটনায় পরে ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। এতে অভিযোগ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ-সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায়ও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ওয়াকিলের গ্রুপ সেভেন স্টার এবং খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল হোসেনের গ্রুপ ফাইভ স্টারের বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

সর্বশেষ ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে।

মামলার এজাহারে বাদী পাঁচটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল তাঁকে অপহরণ করে ওয়াকিলের আস্তানায় নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। আরিফের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেন আজ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ওয়াকিলের ভাই নগর ছাত্রদলের সদস্য রকি হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।