ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবশেষে মাঠে ফেরার অনুমতি পেলেন রিজওয়ান ভোলায় সালিসে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের পর পিটুনিতে কর্মী নিহত টুপটুপ রিসোর্টের মালিকসহ ২৩ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার রড ও বাটাম দিয়ে পেটানো হয় তরুণকে, হাসপাতালে মৃত্যু অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, তদন্তের নির্দেশ পুলিশের পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকে কীভাবে ডেমরায় ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত বাবার মৃত্যু আত্মকথন: শিকড়ের গল্পে, সংস্কৃতির আলোয় মায়ের আগমন টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার ‘ওস্তাদ’ কোন দল, বাংলাদেশ কতটা পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সম্মিলন ২৮ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ শিশু অবস্থান করছে। আর প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে অবস্থান করা এসব শিশুর বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিতে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন এ তথ্য এসেছে। কারাগারে থাকা এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে কিছু সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে প্রকাশিত অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুন মাসে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়সসহ সার্বিক অবস্থান–সংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর রিট আবেদনকারী বরাবরে ওই প্রতিবেদন পাঠায়। রিট আবেদনকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, চলতি সপ্তাহে সমন্বিত প্রতিবেদনটি হাতে এসেছে। কারাগারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের তত্ত্বাবধান করা হয়ে থেকে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন। প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘শিশু সুরক্ষা ইউনিট’ ও ‘প্রবেশন শাখার’ সমন্বিত মতামত–সংবলিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি সিএমএম আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে থাকে।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও সুপারিশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অনুকূল নয়। তাই কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন এবং সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন বিষয়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়দের কাছে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে বলা হয়, কোনো শিশুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বা তা শিশুর জন্য নিরাপদ না হলে ওই শিশুর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে রেখে তার সার্বিক লালন–পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু

আপডেট সময় : ১১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ শিশু অবস্থান করছে। আর প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে অবস্থান করা এসব শিশুর বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিতে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন এ তথ্য এসেছে। কারাগারে থাকা এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে কিছু সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে প্রকাশিত অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুন মাসে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়সসহ সার্বিক অবস্থান–সংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর রিট আবেদনকারী বরাবরে ওই প্রতিবেদন পাঠায়। রিট আবেদনকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, চলতি সপ্তাহে সমন্বিত প্রতিবেদনটি হাতে এসেছে। কারাগারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের তত্ত্বাবধান করা হয়ে থেকে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন। প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘শিশু সুরক্ষা ইউনিট’ ও ‘প্রবেশন শাখার’ সমন্বিত মতামত–সংবলিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি সিএমএম আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে থাকে।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও সুপারিশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অনুকূল নয়। তাই কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন এবং সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন বিষয়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়দের কাছে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে বলা হয়, কোনো শিশুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বা তা শিশুর জন্য নিরাপদ না হলে ওই শিশুর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে রেখে তার সার্বিক লালন–পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে।