ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেকের দপ্তরে ডাকা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। সেখানে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দপ্তর থেকে বের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে ইডির সমন পেয়ে সল্টলেকের দপ্তরে যান ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দপ্তর থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কোন মামলায় এবং কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

.

ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত মাস আর্ট নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে কলকাতার দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস বিক্রি করত মাস আর্ট। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪ হাজার রুপি। ইউনেসকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে এবং সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে এসব পাস বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার নন। তা সত্ত্বেও নিজেদের ইউনেসকোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁরা পাস বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

.

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করা হয়। এসব পাস বিক্রি থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে পাস বিক্রির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ এবং ওই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলিতে তাঁর খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি।

গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আদালত তাঁকে সুরক্ষা দেননি।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনেসকো কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর পর থেকে কলকাতার দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পায়। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ডোনার পাস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেকের দপ্তরে ডাকা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। সেখানে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দপ্তর থেকে বের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে ইডির সমন পেয়ে সল্টলেকের দপ্তরে যান ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দপ্তর থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কোন মামলায় এবং কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

.

ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত মাস আর্ট নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে কলকাতার দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস বিক্রি করত মাস আর্ট। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪ হাজার রুপি। ইউনেসকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে এবং সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে এসব পাস বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার নন। তা সত্ত্বেও নিজেদের ইউনেসকোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁরা পাস বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

.

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করা হয়। এসব পাস বিক্রি থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে পাস বিক্রির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ এবং ওই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলিতে তাঁর খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি।

গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আদালত তাঁকে সুরক্ষা দেননি।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনেসকো কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর পর থেকে কলকাতার দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পায়। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ডোনার পাস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।