ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় কয়েক সেকেন্ডেই। কখনো পড়াশোনার কাজে, কখনো ছবি তৈরি করতে, আবার কখনো জটিল কোনো বিষয় বুঝতে আমরা ব্যবহার করি চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল। কিন্তু এত দ্রুত উত্তর দিতে গিয়ে এআইয়ের পেছনে কত পানি ও বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেটা আমরা সাধারণত ভাবি না।

এআইয়ের উত্তর তৈরি করতে প্রয়োজন হয় বিশাল কম্পিউটারব্যবস্থার। এসব কম্পিউটার চলে ডেটা সেন্টারে। সেখানে হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। কম্পিউটার চালাতে যেমন বিদ্যুৎ লাগে, তেমনি যন্ত্রগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থাও করতে হয়। আর সেখানেই আসে পানির প্রসঙ্গ।

এআইয়ের পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। তাঁর দাবি, চ্যাটজিপিটির পানি ব্যবহার নিয়ে ইন্টারনেটে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। এমনকি একটি বাদাম উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি লাগে, সেই পানিতে নাকি চ্যাটজিপিটিকে ৩৮ হাজার প্রশ্ন করা সম্ভব!

.যে ১০ অভ‍্যাস তোমাকে সফল মানুষ করে তুলবে.

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টমস হার্ডওয়্যারের এক প্রতিবেদনে অল্টম্যানের এই বক্তব্য উঠে আসে। অ্যালেক্স হিথের সঙ্গে সৌর্সের পডকাস্টের এক পর্বে তিনি এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।

অল্টম্যান বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাদাম উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি লাগে, তা প্রায় ৩৮ হাজার প্রশ্ন করার সমপরিমাণ পানি। তাঁর দাবি, এই হিসাব শুধু একটি ডেটা সেন্টারে সরাসরি ব্যবহৃত পানির নয়; বরং পানি ব্যবহারের সামগ্রিক হিসাব ধরেই করা হয়েছে।

একটি বাদাম উৎপাদনে যদি এত পানি লাগে, তাহলে কয়েকটি বাদাম খেলেই কি অসংখ্য এআই প্রশ্নের পানির সমান ব্যবহার হয়ে যায়? তবে এই তুলনা অল্টম্যানের নিজের দেওয়া হিসাব। তিনি বলেছেন, সংখ্যাটি তাঁর স্মৃতি থেকে বলা এবং সঠিক হিসাব সামনে না থাকায় এতে ভুল থাকতে পারে।

২০১৯ সালে ইকোলজিক্যাল ইন্ডিকেটরস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়ায় বাদাম উৎপাদনের পানির ফুটপ্রিন্ট হিসাব করা হয়েছিল। গবেষণায় প্রতি বাদামের জন্য গড়ে প্রায় ১২ লিটার পানির প্রয়োজন পাওয়া গিয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে শুধু বাদামগাছে সেচ দেওয়ার পানি নয়, বৃষ্টির পানির হিসাব এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে পানির গুণমানের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। অন্যদিকে, বাদামগাছে সেচের জন্য ব্যবহৃত মিঠাপানির পরিমাণ ছিল গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৩ লিটার।

.১৩০ বছর পর ভ্যান গঘের আঁকা স্টারি নাইটের রহস্যের সমাধান.

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পানির ফুটপ্রিন্ট বলতে কোনো পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট পানির ব্যবহার ও প্রভাবের হিসাব বোঝানো হয়। এই হিসাবের সবটুকু পানি সরাসরি কারখানা বা খামারে ব্যবহার করা হয় না। তাই একটি বাদাম উৎপাদনে ১২ লিটার পানির ফুটপ্রিন্ট থাকা আর বাদামগাছে সরাসরি ১২ লিটার পানি ঢালা এক কথা না।

চ্যাটজিপিটির প্রতিটি প্রশ্নে আসলে কত পানি লাগে, তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই ৩৮ হাজার প্রশ্নের সংখ্যাটিকে নির্ভুল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

.

ডেটা সেন্টারকে ভাবা যায় বিশাল এক কম্পিউটার ভর্তি ঘর হিসেবে। এখানে থাকে প্রচুর সার্ভার, যেগুলো তথ্য সংরক্ষণ করে এবং নানা ধরনের হিসাব করে। এআইয়ের মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা, এসব কাজের জন্য সার্ভারগুলোকে নিয়মিত কাজ করতে হয়।

কম্পিউটার যত বেশি কাজ করে, তত বেশি তাপ উৎপন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত তাপ সরিয়ে না নিলে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে। তাই ডেটা সেন্টারে তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিছু ব্যবস্থায় পানি ব্যবহার করে তাপ সরানো হয়। কোনো কোনো ব্যবস্থায় আবার অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

অল্টম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরোনো কিছু ডেটা সেন্টারে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ঠান্ডা করার পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যেখানে পানির ব্যবহার বেশি হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, আধুনিক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি বদলেছে। তাই পুরোনো ডেটা সেন্টারের হিসাব দিয়ে বর্তমানের সব ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার বোঝা যায় না।

অল্টম্যান আরও দাবি করেন, আধুনিক বড় একটি ডেটা সেন্টারে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য, যেমন হাত ধোয়া বা শৌচাগারে—যতটা পানি লাগে, মোটামুটি সেই পরিমাণ পানিই ব্যবহৃত হয়। তাঁর মতে, ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে ইন্টারনেটে প্রচলিত কিছু ধারণা পুরোনো প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

.সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষ কি রাত জাগা মানুষের চেয়ে বেশি ভালো.

তবে এটি অল্টম্যানের বক্তব্য, সব ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো সর্বজনীন হিসাব নয়। প্রযুক্তি ও শীতলীকরণব্যবস্থা ভেদে পানির ব্যবহারও আলাদা হতে পারে।

.

এখানেই বিষয়টি জটিল। একটি প্রশ্নের উত্তরে কতটুকু পানি লাগে, তা জানার পাশাপাশি পৃথিবীজুড়ে এআই ব্যবহার বাড়লে সব মিলিয়ে কত পানি লাগবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

টমস হার্ডওয়্যারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। জর্জিয়ার ফেয়েট কাউন্টির একটি ডেটা সেন্টার ১৫ মাসে ২ কোটি ৯০ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্য একটি প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির অবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

এর মানে, একটি এআই প্রশ্নের পেছনে পানির ব্যবহার কম হলেও, বিপুলসংখ্যক প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে হলে সামগ্রিক ব্যবহার কতটা বাড়বে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে মানুষ অসংখ্য প্রশ্ন করে। কেউ কেউ সারাদিনই এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। বহু কাজে এআই ব্যবহার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিমাসে এআই ব্যবহার করে এমন মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০০ কোটি। এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ১০০ কোটি মানুষের সবাই সমান পরিমাণ এআই ব্যবহার করে না। তাই অসংখ্যবার এআই প্রম্পট দেওয়া হতে পারে।

তাই ডেটা সেন্টার কোথায় তৈরি হচ্ছে, সেখানে পানির প্রাপ্যতা কেমন এবং কোন শীতলীকরণপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিয়ে এআই কতটা পানি ব্যবহার করে, তা হিসাব করতে হবে।

.পুঁটি মাছের গায়ে বর্ষাকালে লাল রং আসে কেন.

অল্টম্যানের বক্তব্যে শুধু পানি নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও এসেছে। তাঁর মতে, এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে অনেক দাবি অতিরঞ্জিত হলেও, সব মিলিয়ে এআই চালাতে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে।

এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং চাহিদা। নতুন নতুন সার্ভার চালাতে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। শুধু চ্যাটজিপিটি নয়, ছবি তৈরি, ভিডিও তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য এআইভিত্তিক কাজেও কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের ফাঁকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেছিলেন, প্রতিটি প্রশ্নের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে আলোচনার চেয়ে সব মিলিয়ে এআইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার কত বাড়ছে, সেটি নিয়ে ভাবা বেশি জরুরি। তিনি পারমাণবিক শক্তি, বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তির মতো উৎস থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৫ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এই হিসাব শুধু চ্যাটজিপিটির নয়, বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলোর সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে।

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎস বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

.

স্যাম অল্টম্যানের দাবি, চ্যাটজিপিটির পানি ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণা সঠিক নয় এবং আধুনিক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। তবে এআইয়ের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা এর পাশাপাশি বাড়ছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাই একটি প্রশ্নের জন্য কতটুকু পানি বা বিদ্যুৎ লাগে, শুধু সেই হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। এআই ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ডেটা সেন্টার মিলিয়ে মোট পানি ও বিদ্যুতের চাহিদা কত হচ্ছে, সেটিও জানতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার।

সূত্র: সিএনবিসি

.অয়ন-জিমির নতুন বই অভ্রভেদী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় কয়েক সেকেন্ডেই। কখনো পড়াশোনার কাজে, কখনো ছবি তৈরি করতে, আবার কখনো জটিল কোনো বিষয় বুঝতে আমরা ব্যবহার করি চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল। কিন্তু এত দ্রুত উত্তর দিতে গিয়ে এআইয়ের পেছনে কত পানি ও বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেটা আমরা সাধারণত ভাবি না।

এআইয়ের উত্তর তৈরি করতে প্রয়োজন হয় বিশাল কম্পিউটারব্যবস্থার। এসব কম্পিউটার চলে ডেটা সেন্টারে। সেখানে হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। কম্পিউটার চালাতে যেমন বিদ্যুৎ লাগে, তেমনি যন্ত্রগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থাও করতে হয়। আর সেখানেই আসে পানির প্রসঙ্গ।

এআইয়ের পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। তাঁর দাবি, চ্যাটজিপিটির পানি ব্যবহার নিয়ে ইন্টারনেটে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। এমনকি একটি বাদাম উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি লাগে, সেই পানিতে নাকি চ্যাটজিপিটিকে ৩৮ হাজার প্রশ্ন করা সম্ভব!

.যে ১০ অভ‍্যাস তোমাকে সফল মানুষ করে তুলবে.

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টমস হার্ডওয়্যারের এক প্রতিবেদনে অল্টম্যানের এই বক্তব্য উঠে আসে। অ্যালেক্স হিথের সঙ্গে সৌর্সের পডকাস্টের এক পর্বে তিনি এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।

অল্টম্যান বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাদাম উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি লাগে, তা প্রায় ৩৮ হাজার প্রশ্ন করার সমপরিমাণ পানি। তাঁর দাবি, এই হিসাব শুধু একটি ডেটা সেন্টারে সরাসরি ব্যবহৃত পানির নয়; বরং পানি ব্যবহারের সামগ্রিক হিসাব ধরেই করা হয়েছে।

একটি বাদাম উৎপাদনে যদি এত পানি লাগে, তাহলে কয়েকটি বাদাম খেলেই কি অসংখ্য এআই প্রশ্নের পানির সমান ব্যবহার হয়ে যায়? তবে এই তুলনা অল্টম্যানের নিজের দেওয়া হিসাব। তিনি বলেছেন, সংখ্যাটি তাঁর স্মৃতি থেকে বলা এবং সঠিক হিসাব সামনে না থাকায় এতে ভুল থাকতে পারে।

২০১৯ সালে ইকোলজিক্যাল ইন্ডিকেটরস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়ায় বাদাম উৎপাদনের পানির ফুটপ্রিন্ট হিসাব করা হয়েছিল। গবেষণায় প্রতি বাদামের জন্য গড়ে প্রায় ১২ লিটার পানির প্রয়োজন পাওয়া গিয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে শুধু বাদামগাছে সেচ দেওয়ার পানি নয়, বৃষ্টির পানির হিসাব এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে পানির গুণমানের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। অন্যদিকে, বাদামগাছে সেচের জন্য ব্যবহৃত মিঠাপানির পরিমাণ ছিল গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৩ লিটার।

.১৩০ বছর পর ভ্যান গঘের আঁকা স্টারি নাইটের রহস্যের সমাধান.

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পানির ফুটপ্রিন্ট বলতে কোনো পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট পানির ব্যবহার ও প্রভাবের হিসাব বোঝানো হয়। এই হিসাবের সবটুকু পানি সরাসরি কারখানা বা খামারে ব্যবহার করা হয় না। তাই একটি বাদাম উৎপাদনে ১২ লিটার পানির ফুটপ্রিন্ট থাকা আর বাদামগাছে সরাসরি ১২ লিটার পানি ঢালা এক কথা না।

চ্যাটজিপিটির প্রতিটি প্রশ্নে আসলে কত পানি লাগে, তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই ৩৮ হাজার প্রশ্নের সংখ্যাটিকে নির্ভুল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

.

ডেটা সেন্টারকে ভাবা যায় বিশাল এক কম্পিউটার ভর্তি ঘর হিসেবে। এখানে থাকে প্রচুর সার্ভার, যেগুলো তথ্য সংরক্ষণ করে এবং নানা ধরনের হিসাব করে। এআইয়ের মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা, এসব কাজের জন্য সার্ভারগুলোকে নিয়মিত কাজ করতে হয়।

কম্পিউটার যত বেশি কাজ করে, তত বেশি তাপ উৎপন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত তাপ সরিয়ে না নিলে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে। তাই ডেটা সেন্টারে তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিছু ব্যবস্থায় পানি ব্যবহার করে তাপ সরানো হয়। কোনো কোনো ব্যবস্থায় আবার অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

অল্টম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরোনো কিছু ডেটা সেন্টারে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ঠান্ডা করার পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যেখানে পানির ব্যবহার বেশি হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, আধুনিক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি বদলেছে। তাই পুরোনো ডেটা সেন্টারের হিসাব দিয়ে বর্তমানের সব ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার বোঝা যায় না।

অল্টম্যান আরও দাবি করেন, আধুনিক বড় একটি ডেটা সেন্টারে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য, যেমন হাত ধোয়া বা শৌচাগারে—যতটা পানি লাগে, মোটামুটি সেই পরিমাণ পানিই ব্যবহৃত হয়। তাঁর মতে, ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে ইন্টারনেটে প্রচলিত কিছু ধারণা পুরোনো প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

.সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষ কি রাত জাগা মানুষের চেয়ে বেশি ভালো.

তবে এটি অল্টম্যানের বক্তব্য, সব ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো সর্বজনীন হিসাব নয়। প্রযুক্তি ও শীতলীকরণব্যবস্থা ভেদে পানির ব্যবহারও আলাদা হতে পারে।

.

এখানেই বিষয়টি জটিল। একটি প্রশ্নের উত্তরে কতটুকু পানি লাগে, তা জানার পাশাপাশি পৃথিবীজুড়ে এআই ব্যবহার বাড়লে সব মিলিয়ে কত পানি লাগবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

টমস হার্ডওয়্যারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। জর্জিয়ার ফেয়েট কাউন্টির একটি ডেটা সেন্টার ১৫ মাসে ২ কোটি ৯০ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্য একটি প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির অবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

এর মানে, একটি এআই প্রশ্নের পেছনে পানির ব্যবহার কম হলেও, বিপুলসংখ্যক প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে হলে সামগ্রিক ব্যবহার কতটা বাড়বে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে মানুষ অসংখ্য প্রশ্ন করে। কেউ কেউ সারাদিনই এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। বহু কাজে এআই ব্যবহার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিমাসে এআই ব্যবহার করে এমন মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০০ কোটি। এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ১০০ কোটি মানুষের সবাই সমান পরিমাণ এআই ব্যবহার করে না। তাই অসংখ্যবার এআই প্রম্পট দেওয়া হতে পারে।

তাই ডেটা সেন্টার কোথায় তৈরি হচ্ছে, সেখানে পানির প্রাপ্যতা কেমন এবং কোন শীতলীকরণপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিয়ে এআই কতটা পানি ব্যবহার করে, তা হিসাব করতে হবে।

.পুঁটি মাছের গায়ে বর্ষাকালে লাল রং আসে কেন.

অল্টম্যানের বক্তব্যে শুধু পানি নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও এসেছে। তাঁর মতে, এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে অনেক দাবি অতিরঞ্জিত হলেও, সব মিলিয়ে এআই চালাতে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে।

এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং চাহিদা। নতুন নতুন সার্ভার চালাতে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। শুধু চ্যাটজিপিটি নয়, ছবি তৈরি, ভিডিও তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য এআইভিত্তিক কাজেও কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের ফাঁকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেছিলেন, প্রতিটি প্রশ্নের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে আলোচনার চেয়ে সব মিলিয়ে এআইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার কত বাড়ছে, সেটি নিয়ে ভাবা বেশি জরুরি। তিনি পারমাণবিক শক্তি, বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তির মতো উৎস থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৫ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এই হিসাব শুধু চ্যাটজিপিটির নয়, বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলোর সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে।

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎস বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

.

স্যাম অল্টম্যানের দাবি, চ্যাটজিপিটির পানি ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণা সঠিক নয় এবং আধুনিক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের প্রযুক্তি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। তবে এআইয়ের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা এর পাশাপাশি বাড়ছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাই একটি প্রশ্নের জন্য কতটুকু পানি বা বিদ্যুৎ লাগে, শুধু সেই হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। এআই ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ডেটা সেন্টার মিলিয়ে মোট পানি ও বিদ্যুতের চাহিদা কত হচ্ছে, সেটিও জানতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার।

সূত্র: সিএনবিসি

.অয়ন-জিমির নতুন বই অভ্রভেদী