ব্যবসা বেড়েছে, তারপরও লোকসান বাড়ল সিঙ্গারের
- আপডেট সময় : ১১:৪২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যবসা বেড়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিদেশি কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৭৩ কোটি টাকার বা ৪ শতাংশের বেশি। তারপরও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) শেষে লোকসান বেড়েছে সিঙ্গারের। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনিরীক্ষিত এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি।
.
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। ব্যবসা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গারের পরিচালনা মুনাফাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটি পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি টাকা। কিন্তু সেই পরিচালন মুনাফা শেষ পর্যন্ত বড় লোকসানে পরিণত হয়েছে চূড়ান্ত হিসাবে এসে। কারণ, ব্যাংকঋণের সুদ, সরকারের কর পরিশোধ ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের খরচের পর পরিচালন মুনাফা লোকসানে পরিণত হয়।
.
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকঋণের সুদাসল বাবদ কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খরচ বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল খাতে গত ৯ মাসে কোম্পানিটির খরচ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ের যার পরিমাণ ছিল ১০১ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার কর বাবদ সরকারকে দিয়েছে ১১ কোটি টাকা। আর এসব খরচের পর গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে সিঙ্গারের লোকসান দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সিঙ্গারের লোকসান বেড়েছে ৪ কোটি টাকা।
.
লোকসানের কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটি বলেছে, মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পণ্য বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি কোম্পানিটির। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজার বাস্তবতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এসব কারণে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও মুনাফায় ফিরতে পারেনি কোম্পানিটি।

























