ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পিএইচপি ত্রুটি: চার শতাধিক সরকারি সেবার ওয়েবসাইট মাইগভ ডট বিডি বন্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির জেরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর এবার সরকারি সেবা দেওয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট (mygov.bd) বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল থেকে একাধিকবার ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। এ সময় সাইটে ‘ওয়েব সার্ভার ইজ ডাউন’ বার্তা দেখা যায়।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি ওয়েবসাইট দেখভালের দায়িত্বে থাকা অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, পিএইচপির সর্বশেষ নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধানে ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এ জন্য মাইগভ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সংস্করণে যাওয়ার পর সেবাগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। এ জন্য কয়েকটি ধাপে কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মাইগভের অধীনে অনেকগুলো ডোমেইন রয়েছে। সেগুলো একসঙ্গে হালনাগাদ করতে হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ওয়েবসাইটটি চালু করা যাবে।

.

মাইগভের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাগরিক সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নের ই-অ্যাপোস্টিল সেবা। এই সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে নথি সত্যায়নের আবেদন করা যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমে আসে।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ৪৪০টি সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে। মাইগভের ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে এসব সেবার জন্য আবেদন করা যায়। এটুআই সূত্র বলছে, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সেবা নেন। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় এসব সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

.

সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সরকারি–বেসরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পিএইচপি ব্যবহার করে বহু ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ বা ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

পিএইচপিতে নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট ছাড়াও ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক, বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। এটুআই সূত্র বলছে, শুরুতে মাইগভের ওয়েবসাইট সচল রেখেই হালনাগাদের কাজ করা হচ্ছিল। পরে কারিগরি কারণে এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

.

মাইগভের ফেসবুক পেজে গতকাল একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ রাত ১২টায় ওয়েবসাইট সচল করা হবে।

ওই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই তাঁদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। শামায়েল শামভীর নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনারা কেন অনলাইন বাদে ম্যানুয়াল কোনো ব্যবস্থা রাখেননি? সবার হাতে কি সব সময় ৫–৮ কার্যদিবস সময় থাকে? এর মধ্যে আবার সার্ভারে সমস্যা করে রাখা হয়েছে, এখন জরুরি কাজটা কীভাবে করব?’

শাহরিয়ার অর্ণব নামের একজন লিখেছেন, তিনি ই-অ্যাপোস্টিলের জন্য নথি জমা দিয়েছেন। আগামীকালের মধ্যেই সেটি তাঁর প্রয়োজন। কারণ, তা জমা দিতে হবে। এখন কী করবেন জানেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পিএইচপি ত্রুটি: চার শতাধিক সরকারি সেবার ওয়েবসাইট মাইগভ ডট বিডি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৮:৪০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির জেরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর এবার সরকারি সেবা দেওয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট (mygov.bd) বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল থেকে একাধিকবার ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। এ সময় সাইটে ‘ওয়েব সার্ভার ইজ ডাউন’ বার্তা দেখা যায়।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি ওয়েবসাইট দেখভালের দায়িত্বে থাকা অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, পিএইচপির সর্বশেষ নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধানে ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এ জন্য মাইগভ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সংস্করণে যাওয়ার পর সেবাগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। এ জন্য কয়েকটি ধাপে কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মাইগভের অধীনে অনেকগুলো ডোমেইন রয়েছে। সেগুলো একসঙ্গে হালনাগাদ করতে হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ওয়েবসাইটটি চালু করা যাবে।

.

মাইগভের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাগরিক সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নের ই-অ্যাপোস্টিল সেবা। এই সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে নথি সত্যায়নের আবেদন করা যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমে আসে।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ৪৪০টি সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে। মাইগভের ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে এসব সেবার জন্য আবেদন করা যায়। এটুআই সূত্র বলছে, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সেবা নেন। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় এসব সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

.

সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সরকারি–বেসরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পিএইচপি ব্যবহার করে বহু ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ বা ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

পিএইচপিতে নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট ছাড়াও ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক, বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। এটুআই সূত্র বলছে, শুরুতে মাইগভের ওয়েবসাইট সচল রেখেই হালনাগাদের কাজ করা হচ্ছিল। পরে কারিগরি কারণে এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

.

মাইগভের ফেসবুক পেজে গতকাল একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ রাত ১২টায় ওয়েবসাইট সচল করা হবে।

ওই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই তাঁদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। শামায়েল শামভীর নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনারা কেন অনলাইন বাদে ম্যানুয়াল কোনো ব্যবস্থা রাখেননি? সবার হাতে কি সব সময় ৫–৮ কার্যদিবস সময় থাকে? এর মধ্যে আবার সার্ভারে সমস্যা করে রাখা হয়েছে, এখন জরুরি কাজটা কীভাবে করব?’

শাহরিয়ার অর্ণব নামের একজন লিখেছেন, তিনি ই-অ্যাপোস্টিলের জন্য নথি জমা দিয়েছেন। আগামীকালের মধ্যেই সেটি তাঁর প্রয়োজন। কারণ, তা জমা দিতে হবে। এখন কী করবেন জানেন না।