চার খর্বাকৃতি ভাই-বোনের পরিবারের পাশে মানিকগঞ্জ বন্ধুসভা
- আপডেট সময় : ১১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

একটি পরিবারের আট ভাই-বোনের মধ্যে চারজনই খর্বাকৃতি। তাঁদের মধ্যে দুই বোন ও দুই ভাই। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জীবন চলছে তাঁদের। এমন একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মানিকগঞ্জ বন্ধুসভা।
২৪ অক্টোবর সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের ভাটবাউর গ্রামে ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে একটি সেলাই মেশিন, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবারটিকে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল মোমিন, বন্ধুসভার উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন, সভাপতি চাঁন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিটন মিয়া, সহসভাপতি সৌরভ মাহমুদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমানসহ অন্য বন্ধুরা।
.
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, মৃত হজরত আলী ও বৃদ্ধা জহুরা বেগমের পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে চার সন্তানই খর্বাকৃতির। তাঁরা হলেন মোছা. হাবিয়া (৬৪), মেহেরজান (৫৮), ইজ্জত আলী (৫২) ও সিরাজ আলী (৪৮)। তাঁদের প্রত্যেকেই জন্মের সাত থেকে আট বছরের মধ্যে জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁদের শারীরিক পরিবর্তন হয়। সে সময় গ্রামের কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
চার ভাই-বোনের মধ্যে শুধু ইজ্জত আলী বিয়ে করেছেন। অন্যরা অবিবাহিত। দুই বোনকে নিয়ে পরিবারটি বিপাকে রয়েছে। তাঁরা একা চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের অন্যদের সহযোগিতায় তাঁদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা–নেওয়া করা হয়।
স্থানীয় নারী নেত্রী ঝর্ণা আক্তার বলেন, চার ভাইবোনের মধ্যে মেহেরজান কিছুটা সেলাইয়ের কাজ জানেন। ফলে সেলাই মেশিনটি তাঁর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জানা কাজটি করার সুযোগ পেলে এর মাধ্যমে আয় করার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এতে পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।
.
সেলাই মেশিন পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। ইজ্জত আলী বলেন, তাঁদের কাছে এ সহায়তা শুধু একটি যন্ত্র কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়ার বিষয় নয়; বরং তাঁদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে কেউ পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেটিও তাঁদের জন্য আনন্দের।
মেহেরজান বলেন, ‘আমাগো কষ্টের জীবনের খোঁজ কেউ নেন না। প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের বোঝা মনে হয়। আপনাগো এই সেলাই মেশিন কাজে দিব। কিছু আয় করতে পারলে পরিবারের বোঝা মনে হওয়ার কষ্ট কিছুটা দূর হইব।’
.
প্রথম আলো বন্ধুসভার এ উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক আমজাদ হোসেন বলেন, পরিবারটির চার সদস্য খর্বাকৃতির হওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেলাই মেশিনটি কাজে লাগিয়ে পরিবারটির আয় করার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতেও বন্ধুসভার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে মানবিকতার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল মোমিন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; আন্তরিকতা ও মানবিক উদ্যোগই হতে পারে কারও জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে। সমাজের সামর্থবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনও এভাবে মানুষের পাশে এগিয়ে এলে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতি, মানিকগঞ্জ বন্ধুসভা


























