সাঈদীর মামলার সাক্ষীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ১২:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার পর তাঁর মরদেহ জেলা পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
.
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আসেন স্বজনেরা। এরপর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এদিকে মানিক পশারীকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি তোলেন স্থানীয় কিছু লোক। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
.
পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছি, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপাতে না পারে। একজন মানুষ মারা গেছেন, তাঁর দাফনের বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা নেই।’
তবে আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন। তবু তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা।
.
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মানিক পশারীর মরদেহ এখনো পুলিশ লাইনসের ভেতরে রয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা পিরোজপুরে দাফনের চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো যাবে।’























