রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর আংশিক চালু, সৌদি আরবে হামলা চলছেই
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে আজ রোববার সকালে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই হামলার মধ্যেই আজ রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালে আবারও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে। ইরান–সমর্থিত হুতি গত শনিবার দাবি করে, ওই দিন সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা সাতটি হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, হুতিরা দেশটির পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
এদিকে ইয়েমেনের তাইজ শহর ঘিরে দেশটির সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। শহরে আটকে পড়া আট লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সময় ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
.
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রিয়াদ লক্ষ্য করে রোববার সকালে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া আরও ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি সামরিক জোট।
.
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবর হুতিদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে শনিবার রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (গতকাল) থেকে ২ নম্বর টার্মিনালে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবার চলবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত থাকবে ১ নম্বর টার্মিনাল।
.হুতিদের ভান্ডারে কতটা ভয়ংকর অস্ত্র আছে, কোথা থেকে আসছে, সৌদি আরব কেন হামলা ঠেকাতে পারছে না.
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিমানবন্দরটিকে ‘অনিরাপদ’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীকে সেটি ব্যবহার না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেখানে যেকোনো পরিস্থিতির পরিণতির দায় সৌদি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুতিদের এসব হামলায় সৌদি আরবের ব্যবসা, বিমান চলাচল ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আল–জাজিরার প্রতিবেদনে।
.
খালিজ টাইমস–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার হুতিদের ঘোষিত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কিং খালিদ, কিং ফাহাদ ও নাজরান বিমানবন্দর, ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা, রাবিগ তেল শোধনাগার, তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশন এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি।
হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের পূর্ব থেকে পশ্চিমে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনে তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, শনিবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে। জেদ্দার আল নুজহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল ও রাবিগের মাস্তুরাহ সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
.
হুতিরা শহর দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এর আগে তারা বলেছিল, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে না তারা।
.
ইয়েমেনের তাইজ শহরের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবাল সাবর পাহাড় অভিমুখে গতকাল এগিয়েছেন হুতি যোদ্ধারা। তাঁরা তাইজ অবরোধ করে সৌদি আরব–সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, শনিবার হুতিদের লক্ষ্য করে তারা সাত শতাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীটির তিন শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
.হুতিরা কি আসলেই এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, সৌদি বাহিনী কেন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারছে না

























