ওপেনিংয়ের পুরনো দুশ্চিন্তা নিয়েই স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০২:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের দুটি নেটে ব্যাট করছেন টেস্ট দলের চার ব্যাটসম্যান। দুই স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে জাতীয় দলের পেসার ইবাদত হোসেনও ছিলেন সেখানে। টেস্ট দলের দুই স্পিনার তো আছেনই, নেট বোলারদের বেশির ভাগও স্পিনার। নাজমুল হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম পালা করে মুখোমুখি হলেন তাঁদের।
স্পিন বোঝার সেই চেষ্টায় তাঁদের সঙ্গী তখন পর্যন্ত জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও সহকারী কোচ মালিবঙ্গয়ে মাকেতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের পথটা কেমন হতে পারে, তা আরও স্পষ্ট হলো একটু পর সাদমান ইসলামকে নিয়ে আশরাফুলকে আলাদা কাজ করতে দেখে। রাতেই অবশ্য আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে সকালেও থ্রোয়ারের দায়িত্বটা একাই কাঁধে তুলে সাদমান ইসলামকে তিনি সুইপ আর রিভার্স সুইপ করতে দেন প্রায় আধা ঘণ্টা। সাদমান ওপেনার, তাঁকে নতুন বলে পেস সামলানোর দায়িত্বটাই নিতে হবে বেশি—কিন্তু মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের পরিকল্পনার অনেকটাজুড়ে যে স্পিন, সেটির ছাপই যেন দেখা গেল কাল। নইলে ওপেনারদের তো আর স্পিনে মন দেওয়ার দরকার হয় না!
.
শুধু সাদমান নয়, আজ মিরপুরে ঘণ্টা তিনেকের অনুশীলনের বেশির ভাগজুড়েই ছিল স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত মিরপুরে যদি বাংলাদেশ স্পিন–সহায়ক উইকেটে খেলে, তাহলে তো আর শুধু বোলারদের দিয়ে কাজ হবে না; ব্যাটসম্যানদেরও স্পিনটা খেলতে জানতে হবে।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্পিন–ফাঁদে পড়ে যাওয়ার অতীতের ঘটনা সেই ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের এক সদস্য অবশ্য উইকেট নিয়ে রহস্যই রেখে দিতে চাইলেন, ‘দেখা যাক, কেমন উইকেট হয়, আপাতত অজানাই থাকুক!’
.
উইকেট এবার যেমনই হোক, সাদমান ইসলামের দিকে দলের চোখ থাকবে নিশ্চিতভাবেই। গত দুই বছরে আলাদা আলাদা পাঁচজন ওপেনার খেলিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু তাঁদের কেউই থিতু হতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত সাদা বলের ক্রিকেট থেকে একটু তাড়াহুড়া করেই নিয়ে আসা হয় তানজিদ হাসানকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পর থেকে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেনিংয়ে আপাতত থিতু তিনিই। কিন্তু অদলবদলেও শুরুর চিত্রটা বদলায়নি।
.
গত চার বছরেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে এক শ পেরোনো জুটি বাংলাদেশ পেয়েছে কেবল একটি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বর দল হলেও এক শ পেরোনো জুটির তালিকায় বাংলাদেশ আছে সবার শেষে। এক শ রানের যেই জুটিটা ছিল, সেটিও সেই ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে এসেছিল নাজমুল হোসেন ও জাকির হাসানের কল্যাণে।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেরোনো জুটি তানজিদ ও সাদমান পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল না। দুজনের মধ্যে সাদমানের জায়গাই কিছুটা নড়বড়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্রে ১০ ইনিংসে তাঁর ফিফটি কেবল একটি, গড়ও ২৪.১১।
.
বাংলাদেশের হাতে অবশ্য বিকল্পও খুব একটা নেই। এবারের সিরিজেই যেমন দলে কোনো তৃতীয় ওপেনারই নেই। সৌম্য সরকারকে জাতীয় দলের সঙ্গে দুই সিরিজ ঘুরিয়ে একাদশে না রেখেই বাদ দেওয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ থেকে। তাঁকে নির্বাচকেরা জাতীয় লিগেই রান করতে দেখতে চান।
.
সম্ভাব্য ওপেনার হিসেবে বিকল্প ভাবনায় আছেন মাহফিজুল ইসলামও। কিন্তু জাতীয় লিগে ৭ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার যে ধরনের প্রতিপক্ষ, উইকেটে রান করেছেন তা নিয়ে নির্বাচকেরা ঠিক সন্তুষ্ট নন। মাঝে বিসিবি একাদশের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেলেও তিনি আউট হয়ে গেছেন ৪ রান করে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর থাকা বাংলাদেশের জন্য এখন তাই তৃতীয় ওপেনারের জায়গাটা একরকম ফাঁকা। তবে তারও আগে টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া, সাদমান–তানজিদ যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজে ভালো করেন। নয়তো ওপেনিংয়ের এই দুশ্চিন্তাটা আরও বাড়বে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই পরীক্ষায় নতুন বলের পেস সুইং সামলাতে তো হবেই, স্পিন–সহায়ক উইকেটে ঘূর্ণিও সামাল দিতে হতে পারে বাংলাদেশের ওপেনারদের।
.সেঞ্চুরির পর ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি নাঈম–মাহফিজুলের
























