কারওয়ান বাজারে ভ্যানগাড়িতে রুবেলের স্মার্ট ক্যাফে: অ্যাপে অর্ডার, কিউআরে বিল পরিশোধ
- আপডেট সময় : ০৫:০০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সময় বাঁচাতে অফিস ছাড়ার আগেই স্মার্টফোন অ্যাপে কফির অর্ডার দিয়ে রাখছেন অনেকে। আর নিচে নেমে ভ্যানগাড়ির সামনে দাঁড়াতেই মিলছে পছন্দের ক্যাপাচিনো, লাতে বা আমেরিকানো। বিল মেটাতেও নগদ টাকার ঝামেলা নেই, সবই হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’ স্ক্যানে। আছে কফি তৈরির আধুনিক মেশিন। ১৩ স্বাদের কফি এবং ১৩ স্বাদের চা পাওয়া যায় এই ভ্যানগাড়ি ক্যাফেতে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির পেছনের গলি। সবার কাছে পরিচিত ‘এনটিভির গলি’ হিসেবে। গলিতে আছে চা, বিস্কুট, সমুচা, সিঙ্গাড়ার বেশ কয়েকটি দোকান। অন্যসব দোকানগুলোর মাঝে থাকা তিন চাকার একটি ভ্যানগাড়ি। এই গাড়িতেই দেওয়া হয়েছে আধুনিক একটি কফিশপ। নাম ‘প্যাসিফিক ক্যাফে’।
এখানে সময় বাঁচাতে গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে স্মার্ট অর্ডারিং সুবিধা। অ্যাপে আগেভাগেই পছন্দের আইটেমটি জানিয়ে দেওয়া যায়। গ্রাহক দোকানে পৌঁছানোর আগেই তা প্রস্তুত রাখা হয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার কোনো ঝামেলাই থাকে না।
ডেলিভারি সেবা না থাকলেও আশপাশের অফিসযাত্রীদের জন্য এই ‘সেলফ-পিকআপ’ সুবিধা বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছে। আর কেনা শেষে ক্যাশ টাকার বদলে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে ক্যাশলেস লেনদেন করার ব্যবস্থা ক্যাফেটিকে যেন স্মার্ট বাংলাদেশের রূপ দিয়েছে।
ভ্যানগাড়িতে এমন আধুনিক ধারণা এসেছে উদ্যোক্তা রুবেল আহমেদের কাছ থেকে। এমজিএইচ গ্রুপের ক্যাফে চেইন ‘বারিস্তায়’ দীর্ঘদিনের বারিস্তা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। পরে বারিস্তা বন্ধ করে তারা ‘পেয়ালা’ শুরু করলে রুবেলের চাকরি হুমকির মুখে পড়ে। এই সময়ে সিদ্ধান্ত নেন অন্যের অধীনে নয়, নিজের দক্ষতাকে স্বাধীনভাবে কাজে লাগানোর। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে দেন।
জমানো পুঁজি ও সাহস সম্বল করে প্রায় চার লাখ টাকা দিয়ে ইতালিয়ান বাণিজ্যিক কফি তৈরির আধুনিক মেশিন কেনেন রুবেল। একটি তিন চাকার ভ্যানগাড়ির ওপর সেই দামি মেশিন বসিয়ে শুরু হয় ‘প্যাসিফিক ক্যাফে’র পথচলা। এখন রুবেলের সঙ্গে পূর্ণ উদ্যমে হাল ধরেছেন ছোট ভাই দুর্জয় ভুঁইয়া।
ভ্যানের ছোট পরিসর হলেও স্বাদের তালিকায় কোনো ছাড় নেই। বড় ক্যাফের মতোই খাঁটি কফির স্বাদ মিলছে এখানে। মেন্যুতে হট কফির মধ্যে আছে এসপ্রেসো (৯০ টাকা), ক্যাফে ম্যাকিয়াতো (১০০ টাকা), আমেরিকানো (১০০ টাকা), ক্যাপাচিনো (১০০ টাকা), লাতে (১৩০ টাকা) ও মোকাসিনো (১৫০ টাকা)। গরমের দিনে ক্লান্তি মেটাতে কোল্ড কফিও নেওয়া যেতে পারে। এই তালিকায় আছে আইসড আমেরিকানো (১২০ টাকা), আইসড লাতে (১৩০ টাকা), মোকা ফ্রাপ্পে (১৫০ টাকা), ওরিও কফি শেক (১৬০ টাকা) ও ওরিও চকলেট শেক (১৭০ টাকা)।
চাপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে নানা স্বাদের চা আয়োজন। সাধারণ গ্রিন টি কিংবা রঙ চা মাত্র ১০ টাকা। মিল্ক টি ২০ টাকা, মসলা রঙ চা ও লেমন টি ১৫ টাকা এবং মসলা মিল্ক টি মিলছে ২৫ টাকায়। স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য রয়েছে টনিক টি (২০ টাকা) ও হানি লেমন টি (৩০ টাকা)। এ ছাড়া চকলেট টি (৩০ টাকা), পিনাটস টি (৩০ টাকা), কফি চকলেট টি (৪০ টাকা) ও চকলেট পিনাটস টি (৪০ টাকা) নজর কাড়ছে তরুণদের।
জুস ও মিল্কশেকপ্রেমীদের জন্য ফ্রেশ জুস ও লেমনেড ৫০ টাকা, লাস্যি ও আইস টি মিলছে ৭০ টাকায়। মিল্কশেকের তালিকায় পেঁপে, চকলেট, ম্যাঙ্গো, বাদাম, খেজুর, স্ট্রবেরি ও কলা মধুর মিল্কশেক পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকা করে। একটু প্রিমিয়াম স্বাদের ওরিও কফি ও ওরিও চকলেট মিল্কশেক মিলবে ১০০ টাকায়। সঙ্গে চটজলদি নাশতার জন্য স্যান্ডউইচ (৮০ টাকা) এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দই-চিড়া (৭০ টাকা) বেশ জনপ্রিয়। এসবই রুবেল যোগ করেছেন হালে।
দুর্জয় জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ কাপ কফি এবং শতাধিক কাপ চা বিক্রি হয় তাঁদের। এছাড়া বিয়ে, করপোরেট মিটিং বা যেকোনো বড় আয়োজনে ন্যূনতম ২০০ কাপ কফির ফরমায়েশ পেলে তবেই আধুনিক মেশিন নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যান যেকোনো অনুষ্ঠানস্থলে।
শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে প্যাসিফিক ক্যাফের এই চা-কফির ধোঁয়া ওঠা ব্যস্ততা।






















