ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মাদ্রাসায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকসহ দুজন গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩); আরেকজন হলেন মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ মিজান (৩৮)। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির মা। মামলার অন্য আসামি হলেন আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)।

.‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ.

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ৭ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে তাকে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে রেখে আসেন তাঁর মা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাসায় খেতে এলে গোসল করানোর সময় ধর্ষণের বিষয়টি টের পান পরিবারের সদস্যরা।

এজাহারে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক একটার দিকে মাদ্রাসার ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান অলিউল্লাহ ইসলাম। পরে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে ১১ অক্টোবর রাত দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে আবারও শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধর করা হবে বলেও শিশুটিকে ভয় দেখানো হয়।

.

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ মিজান ও আব্দুল কুদ্দুস শেখ। একপর্যায়ে অলিউল্লাহকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

.

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ মিজান ও আব্দুল কুদ্দুস শেখ। একপর্যায়ে অলিউল্লাহকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, আজ শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

গাজীপুরে মাদ্রাসায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকসহ দুজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩); আরেকজন হলেন মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ মিজান (৩৮)। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির মা। মামলার অন্য আসামি হলেন আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)।

.‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ.

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ৭ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে তাকে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে রেখে আসেন তাঁর মা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাসায় খেতে এলে গোসল করানোর সময় ধর্ষণের বিষয়টি টের পান পরিবারের সদস্যরা।

এজাহারে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক একটার দিকে মাদ্রাসার ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান অলিউল্লাহ ইসলাম। পরে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে ১১ অক্টোবর রাত দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে আবারও শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধর করা হবে বলেও শিশুটিকে ভয় দেখানো হয়।

.

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ মিজান ও আব্দুল কুদ্দুস শেখ। একপর্যায়ে অলিউল্লাহকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

.

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ মিজান ও আব্দুল কুদ্দুস শেখ। একপর্যায়ে অলিউল্লাহকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, আজ শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।