ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেনে নিন, সর্বোচ্চ বেহেশত ‘ফেরদাউস’ পাওয়ার ৫ আমল একঝলক (১৯ অক্টোবর ২০২৬) কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আবার রিয়াদের ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে: বিমানমন্ত্রী জুনে সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস বন্দিতালিকায় দুজনের নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন ঊহ্য রাখা হলো, প্রশ্ন ঢাকার

কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ঘিরে বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বামপন্থী দলগুলোর বসানো বইয়ের স্টল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থক পরিচয় দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত এসব হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে দলটি। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে বিচারপতি পার্থ প্রতীম রায় মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে নিয়মিত বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও এসইউসিআইয়ের মতো বামপন্থী দলগুলো। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূল সরকারের আমলেও এই দীর্ঘ ঐতিহ্যে কোনো ছেদ পড়েনি। তবে সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্ব আর বাংলায় কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দিতে দিতে রাজি নয়। এমনকি বিজেপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আগেই বামপন্থীদের বইয়ের স্টল না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ বামদের। তাঁদের দাবি, সেই ঘোষণার জেরেই কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপের কাছে স্টল বসাতে গেলে হামলা চালানো হচ্ছে।

সোমবার মহা অষ্টমীর দিনেও হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিপিএমের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে কলকাতার যাদবপুর, হরিদেবপুর ছাড়াও ডোমজুড়, শালকিয়া, ফুলিয়া ও হলদিয়ায় একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। যাদবপুরে এমনকি বুলডোজার এনে স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়; তবে সিপিএম ও সিপিআই কর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কোথাও কোথাও হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুর চালিয়েই থামেনি, স্টলে অগ্নিসংযোগও করেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো লাল শালু ঘেরা বহু বইয়ের স্টল চালু রয়েছে। তবে যেসব জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করছেন সিপিএমের কর্মীরা; সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছেন বেশ।

বইয়ের স্টলে এই হামলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, আদর্শগত ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু বই বিক্রি করতে না দেওয়া বা বইয়ের স্টল ভাঙচুর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ওরা ভারতবর্ষকে বোঝেনি, চেনেনি। তাই এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তো ৩০-৪০ বছর ধরে দেখছি বামরা পূজা এবং বিভিন্ন মেলায় বইয়ের দোকান দিয়ে আসছে। বই কি ময়লার মধ্যে ফেলে দেওয়া ঠিক?

এদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতা জিষ্ণু বসু এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, প্রত্যেকেরই বুক স্টল করার অধিকার আছে। আজ যারা বুক স্টল ভাঙছে, তারা কেউ আসল লড়াইয়ে ছিল না। ক্ষমতার দম্ভে এসব করছে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আদর্শগতভাবে আমাদের সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক গভীর না থাকলেও তাদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর করার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আর এখন রাজনৈতিক সংকট নয়, সভ্যতার সংকট।’

অন্যদিকে বইয়ের স্টল বিতর্ক ও বামপন্থীদের ইঙ্গিত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক বক্তব্যে বলেন, চীনে যাদের বাড়ি, তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ঘিরে বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বামপন্থী দলগুলোর বসানো বইয়ের স্টল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থক পরিচয় দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত এসব হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে দলটি। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে বিচারপতি পার্থ প্রতীম রায় মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে নিয়মিত বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও এসইউসিআইয়ের মতো বামপন্থী দলগুলো। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূল সরকারের আমলেও এই দীর্ঘ ঐতিহ্যে কোনো ছেদ পড়েনি। তবে সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্ব আর বাংলায় কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দিতে দিতে রাজি নয়। এমনকি বিজেপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আগেই বামপন্থীদের বইয়ের স্টল না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ বামদের। তাঁদের দাবি, সেই ঘোষণার জেরেই কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপের কাছে স্টল বসাতে গেলে হামলা চালানো হচ্ছে।

সোমবার মহা অষ্টমীর দিনেও হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিপিএমের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে কলকাতার যাদবপুর, হরিদেবপুর ছাড়াও ডোমজুড়, শালকিয়া, ফুলিয়া ও হলদিয়ায় একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। যাদবপুরে এমনকি বুলডোজার এনে স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়; তবে সিপিএম ও সিপিআই কর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কোথাও কোথাও হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুর চালিয়েই থামেনি, স্টলে অগ্নিসংযোগও করেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো লাল শালু ঘেরা বহু বইয়ের স্টল চালু রয়েছে। তবে যেসব জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করছেন সিপিএমের কর্মীরা; সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছেন বেশ।

বইয়ের স্টলে এই হামলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, আদর্শগত ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু বই বিক্রি করতে না দেওয়া বা বইয়ের স্টল ভাঙচুর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ওরা ভারতবর্ষকে বোঝেনি, চেনেনি। তাই এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তো ৩০-৪০ বছর ধরে দেখছি বামরা পূজা এবং বিভিন্ন মেলায় বইয়ের দোকান দিয়ে আসছে। বই কি ময়লার মধ্যে ফেলে দেওয়া ঠিক?

এদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতা জিষ্ণু বসু এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, প্রত্যেকেরই বুক স্টল করার অধিকার আছে। আজ যারা বুক স্টল ভাঙছে, তারা কেউ আসল লড়াইয়ে ছিল না। ক্ষমতার দম্ভে এসব করছে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আদর্শগতভাবে আমাদের সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক গভীর না থাকলেও তাদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর করার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আর এখন রাজনৈতিক সংকট নয়, সভ্যতার সংকট।’

অন্যদিকে বইয়ের স্টল বিতর্ক ও বামপন্থীদের ইঙ্গিত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক বক্তব্যে বলেন, চীনে যাদের বাড়ি, তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে।