ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঠকের ছবি (২০ অক্টোবর ২০২৬) তোয়ালে যেভাবে বাঁচিয়ে দিল বোল্ড হওয়া ব্যাটসম্যানকে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় বাবার ১০ বছর পর কেমন হবে দেশের আবাসন খাত | রিয়েল এস্টেট কানেক্ট বাংলাদেশ বান্দরবানে হোটেল–মোটেলে শতভাগ বুকিং, করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ পর্যটক ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সিটি হলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, কী পরিচয় তাঁর পিএসজিকে সেই ৬-১ মনে করিয়ে নিজেদের ক্ষতও দেখাল বার্সেলোনা আগে পদ ছেড়েছেন প্রায় তিন ডজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেশার টাকা না পেয়ে মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক এআই কি কাজ সহজ করছে, নাকি কাজের চাপ বাড়াচ্ছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সিটি হলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, কী পরিচয় তাঁর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতার সময় উনিশ শতকের একটি সিটি হলে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গত শনিবার ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরের কারুকাজখচিত সিটি হলটির ঘড়ির মিনার ও ছাদের একাংশ আগুনে পুড়ে যায়।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ৪০ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে ‘এস’ শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি সেবার মানের চরম অবনতির প্রতিবাদে লাখ লাখ আন্দোলনকারী রাজপথে নেমে আসেন।

ডারমানিন বলেন, তিনি সরকারি প্রসিকিউটরদের ‘কঠোর’ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যাঁরা পুলিশ কর্মকর্তা, জেন্ডারমেস (আধা সামরিক বাহিনী) ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, দোকানপাটে লুটপাট করেছেন এবং সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কোনো অনুকম্পা না দেখাতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্সজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সব ফরাসি নাগরিককে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করবে’।

তবে এর আগে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু বলেছিলেন, তিনি জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

লিমোজের সিটি হলের ছাদ ও ঘড়ির মিনার বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেকরনু বলেন, গতকাল সোমবার থেকে পুরো ফ্রান্সে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সান্ধ্য আইন জারি করার ফলে বিশৃঙ্খলা কমেছে। একটি শান্ত রাত কেটেছে।

রাজধানী প্যারিস অংশজুড়ে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্লেস দে লা রিপাবলিক। সপ্তাহান্তে আন্দোলনকারীরা এই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ ছাড়া লেস হেলস শপিং এলাকাও রয়েছেন।

দক্ষিণের মার্সেই, বোর্দো, নিস ও লিওঁ এবং উত্তরের লিলে ও অন্যান্য শহরে তরুণদের চলাচল ও সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

লেকরনু এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা ও জেন্ডারমেসদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাতেও সান্ধ্য আইন জারি করা হবে কি না, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লেকরনু লিখেছেন, ফরাসি অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মেয়ররা পরিস্থিতি ‘সরেজমিনে দেখে’ এসব সিদ্ধান্ত নেবেন।

গতকাল রাতে দক্ষিণের শহর লিওঁর রাস্তাঘাট শান্ত ছিল।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছিলেন, কিছু শহরে পুলিশ ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল’।

সহিংসতা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর ফলে তিনি গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ প্রত্যাখ্যান করেন।

কর্মকর্তারা গতকাল জানিয়েছেন, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, পুলিশের ব্যবহৃত গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সে প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে। তখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় এই আন্দোলন বিস্তৃত রূপ নেয়। ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী দল যুক্ত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ফ্রান্সের চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআই) প্রধান জানিয়েছেন, সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্যারিস, মার্সেই এবং অন্যান্য বড় ও ছোট শহরে মুখোশ ও কালো পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদের গাড়ি ও ভবনে আগুন দিতে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালাতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভের আয়োজকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে দ্বিতীয় দফার প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সিটি হলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, কী পরিচয় তাঁর

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতার সময় উনিশ শতকের একটি সিটি হলে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গত শনিবার ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরের কারুকাজখচিত সিটি হলটির ঘড়ির মিনার ও ছাদের একাংশ আগুনে পুড়ে যায়।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ৪০ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে ‘এস’ শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি সেবার মানের চরম অবনতির প্রতিবাদে লাখ লাখ আন্দোলনকারী রাজপথে নেমে আসেন।

ডারমানিন বলেন, তিনি সরকারি প্রসিকিউটরদের ‘কঠোর’ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যাঁরা পুলিশ কর্মকর্তা, জেন্ডারমেস (আধা সামরিক বাহিনী) ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, দোকানপাটে লুটপাট করেছেন এবং সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কোনো অনুকম্পা না দেখাতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্সজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সব ফরাসি নাগরিককে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করবে’।

তবে এর আগে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু বলেছিলেন, তিনি জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

লিমোজের সিটি হলের ছাদ ও ঘড়ির মিনার বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেকরনু বলেন, গতকাল সোমবার থেকে পুরো ফ্রান্সে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সান্ধ্য আইন জারি করার ফলে বিশৃঙ্খলা কমেছে। একটি শান্ত রাত কেটেছে।

রাজধানী প্যারিস অংশজুড়ে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্লেস দে লা রিপাবলিক। সপ্তাহান্তে আন্দোলনকারীরা এই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ ছাড়া লেস হেলস শপিং এলাকাও রয়েছেন।

দক্ষিণের মার্সেই, বোর্দো, নিস ও লিওঁ এবং উত্তরের লিলে ও অন্যান্য শহরে তরুণদের চলাচল ও সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

লেকরনু এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা ও জেন্ডারমেসদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাতেও সান্ধ্য আইন জারি করা হবে কি না, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লেকরনু লিখেছেন, ফরাসি অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মেয়ররা পরিস্থিতি ‘সরেজমিনে দেখে’ এসব সিদ্ধান্ত নেবেন।

গতকাল রাতে দক্ষিণের শহর লিওঁর রাস্তাঘাট শান্ত ছিল।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছিলেন, কিছু শহরে পুলিশ ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল’।

সহিংসতা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর ফলে তিনি গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ প্রত্যাখ্যান করেন।

কর্মকর্তারা গতকাল জানিয়েছেন, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, পুলিশের ব্যবহৃত গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সে প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে। তখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় এই আন্দোলন বিস্তৃত রূপ নেয়। ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী দল যুক্ত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ফ্রান্সের চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআই) প্রধান জানিয়েছেন, সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্যারিস, মার্সেই এবং অন্যান্য বড় ও ছোট শহরে মুখোশ ও কালো পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদের গাড়ি ও ভবনে আগুন দিতে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালাতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভের আয়োজকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে দ্বিতীয় দফার প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে।