ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে’: আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভ সূর্যবংশীতে ভারতের মোহ কি শেষ? ৫ টি–টুয়েন্টিতেই একাদশে বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে বদলি ডেমরায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, বুয়েটের আবরার ফাহাদ ও সিনহা হত্যা মামলায় আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার কি দেশে ফিরছেন মৌসুমী রূপে তোমায় ভোলাব না, ভালোবাসায় ভোলাব… বাংলাদেশে উঠতি মধ্যবিত্তের বিকাশ এবং স্থানীয় শিল্পায়নের সম্ভাবনা ‘পানিপথ’-এর দুই ঠিকানা, জাতীয় ভাবের দুই কল্পনা বর্জ্য সরিয়ে বৃক্ষরোপণ, ঢাকা জেলা প্রশাসনের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার কি দেশে ফিরছেন মৌসুমী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন দেশের সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এবার তাঁর দেশে ফেরার পথ সহজ হলো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী–পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে সুখবরটি জানান মৌসুমী। এরপর এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনিও নিশ্চিত করেছেন গ্রিনকার্ড প্রাপ্তির খবরটি।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এর পর থেকে সেখানেই আছেন তিনি। মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বও সামলেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না পাওয়ায় দেশে আসা-যাওয়া সহজ ছিল না বলে জানা গেছে। তিন বছর অপেক্ষার পর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না মৌসুমী। সেখানে থাকার সময় ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। পরে সেটি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিয়মিত অভিনয় কিংবা নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি এই অভিনেত্রী।

অভিনয়শিল্পী মৌসুমী–ওমর সানীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাইজা মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছেলে ফারদীন থাকেন দুবাইয়ে। অন্যদিকে স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বাংলাদেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। তবে নিয়মিত পরিবারের সবার সঙ্গে ভিডিওকলে কথা হয়।

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মৌসুমী। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দোলা’, ‘অন্তরে অন্তরে’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রী দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ফলে মৌসুমীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও বাংলাদেশে আসা–যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো সমস্যা থাকছে না।

এখন প্রশ্ন, কবে দেশে ফিরবেন তিনি? দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে নিয়মিত হবেন কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল। আপাতত এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট কোনো কিছু জানা যায়নি।

তবে কবে দেশে ফিরবেন—সে বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী প্রথম আলোকে বললেন, ‘ফিরে তো আসতাম আরও আগে। আমি এখানে যে কাজে এসেছিলাম, তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আম্মার কারণে এখন আসতে পারছি না। আম্মা অনেক দিন ধরে অসুস্থ, তাঁর দেখাশোনার বিষয়টা আছে। নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি আম্মার দেখাশোনার বিষয়টা তো অবশ্যই আছে। আম্মার বয়স হয়েছে, তিনি এখন আর একা চলতে পারেন না। তাঁর সহযোগিতার দরকার হয়। দেখা গেল, একদিন নিজে নিজে হাঁটতে পারছেন, পরদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এই হচ্ছে এখন আমার অবস্থা। ডিমেনশিয়া আছে একটু, এটাও বয়সের কারণে। এর বাইরে অন্য কোনো জটিল সমস্যা নেই। একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি। চোখের সামনে আম্মাকে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছি। এ সময়টায় আম্মার পাশে থাকতে পারছি, এটাই অনেক বেশি আনন্দের ও ভালো লাগার।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার কি দেশে ফিরছেন মৌসুমী

আপডেট সময় : ০১:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন দেশের সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এবার তাঁর দেশে ফেরার পথ সহজ হলো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী–পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে সুখবরটি জানান মৌসুমী। এরপর এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনিও নিশ্চিত করেছেন গ্রিনকার্ড প্রাপ্তির খবরটি।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এর পর থেকে সেখানেই আছেন তিনি। মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বও সামলেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না পাওয়ায় দেশে আসা-যাওয়া সহজ ছিল না বলে জানা গেছে। তিন বছর অপেক্ষার পর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না মৌসুমী। সেখানে থাকার সময় ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। পরে সেটি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিয়মিত অভিনয় কিংবা নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি এই অভিনেত্রী।

অভিনয়শিল্পী মৌসুমী–ওমর সানীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাইজা মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছেলে ফারদীন থাকেন দুবাইয়ে। অন্যদিকে স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বাংলাদেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। তবে নিয়মিত পরিবারের সবার সঙ্গে ভিডিওকলে কথা হয়।

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মৌসুমী। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দোলা’, ‘অন্তরে অন্তরে’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রী দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ফলে মৌসুমীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও বাংলাদেশে আসা–যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো সমস্যা থাকছে না।

এখন প্রশ্ন, কবে দেশে ফিরবেন তিনি? দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে নিয়মিত হবেন কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল। আপাতত এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট কোনো কিছু জানা যায়নি।

তবে কবে দেশে ফিরবেন—সে বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী প্রথম আলোকে বললেন, ‘ফিরে তো আসতাম আরও আগে। আমি এখানে যে কাজে এসেছিলাম, তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আম্মার কারণে এখন আসতে পারছি না। আম্মা অনেক দিন ধরে অসুস্থ, তাঁর দেখাশোনার বিষয়টা আছে। নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি আম্মার দেখাশোনার বিষয়টা তো অবশ্যই আছে। আম্মার বয়স হয়েছে, তিনি এখন আর একা চলতে পারেন না। তাঁর সহযোগিতার দরকার হয়। দেখা গেল, একদিন নিজে নিজে হাঁটতে পারছেন, পরদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এই হচ্ছে এখন আমার অবস্থা। ডিমেনশিয়া আছে একটু, এটাও বয়সের কারণে। এর বাইরে অন্য কোনো জটিল সমস্যা নেই। একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি। চোখের সামনে আম্মাকে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছি। এ সময়টায় আম্মার পাশে থাকতে পারছি, এটাই অনেক বেশি আনন্দের ও ভালো লাগার।’