মাদক-জুয়া বন্ধের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৬:২০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের মুলাদীতে জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামের এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি রহমত ফরাজীকে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)।
আজ শুক্রবার দুপুরে নগরের রূপাতলী এলাকায় এসআরবি-৮-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার ওয়ালিদ হাসান জানান, স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্কুর আলীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। কৃষ্ণপুর এলাকায় জুয়া খেলা নিষেধ করায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত শুক্কুর আলী মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পানের সময় শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহত ব্যক্তির বাবা আবদুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, ডুমুরীতলা গ্রামের রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন শুক্কুর আলীকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে বারেক ফরাজী মুলাদীর গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
পরে স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এসআরবি-৮-এর কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মুলাদী থানায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রহমত উল্লাহ ফরাজীকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআরবি-৮-এর সদর কোম্পানি এবং এসআরবি-১০-এর যাত্রাবাড়ী কোম্পানির একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


























