ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইমরান খানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবারই তাঁরা হাইকোর্টে যাবেন। ইমরানের কাছে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। ওই কার্ড প্রাপকদের এমন কোনো শর্ত মানতে হয় না যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে অতি দ্রুততার শুনানি শেষ করতে হবে। কারণ, দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে দেশ ত্যাগ করতে বলেছে।

ইমরানের অপরাধ, বিদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ছেড়েও দেওয়া হয়। ইমরান খান (৪৩) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইমরানকে নোটিস পাঠিয়ে বলেছে, বিদেশি নাগরিক আইন বা ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার জন্য তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইমরানের মা নুজহাত খান হলেন অভিনেতা আমির খানের আপন ফুফু বা পিসি। ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন প্রদেশে তাঁর জন্ম। জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইমরান বলেন, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বা ‘ওভারসিজ ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ (ওসিআই)। তাঁর ‘ওসিআই’ পরিচয়পত্র আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, তিনি বিদেশি আইন ভঙ্গ করেছেন। মু্ম্বাই পুলিশ সেই অভিযোগপত্র এফআরআরওর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ওই সংস্থাই তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা ‘ওসিআই’ পরিচিতিপত্র পাওয়ার অধিকারী। ওসিআই কার্ডধারীরা আজীবন ভারতে আসার ভিসা পেয়ে থাকেন। তবে তাঁরা ভারতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। ভোটদানের অধিকারও তাঁদের নেই।

ইমরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মুম্বাই পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র বিজেপির সহসভাপতি কিরিট সোমাইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়ে ইমরান ‘বেআইনি রাজনৈতিক বিক্ষোভে’ অংশ নিয়ে ওসিআই ভিসা আইন ভঙ্গ করেছেন। ইমরানকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিজেপি সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘মেরি মিলবেন, আমেরিকান নাগরিক, বিজেপির পক্ষে কথা বলতে পারেন। অথচ ইমরান, যিনি একজন ওসিআই কার্ড হোল্ডার, বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না !’

আটক করার পর পুলিশ ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার এক ছবি ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন। তাতে লেখা, ‘মনে হচ্ছে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।’ একটা ভিডিও–ও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায় ইমরান ‘জয় হিন্দ’ বলছেন। আরও এক ক্লিপিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন আমাকে এখানে আনা হয়েছে। ওরা (পুলিশ) আমাদের রাস্তা থেকে তুলে নেয় ও ভ্যানে বসতে বলে।’

এরপর ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, মুম্বাইয়ের নাগরিক হিসেবে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট দাবি তাঁরা জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দাবিদাওয়া নেই। একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে এখানে এসেছি। দেখতে এসেছি কেন যাতায়াতের অধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেন মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। সিজেপির ডাকা সেদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুম্বাই পুলিশ ৬০০ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’ ও সিপিএমের কর্মী–সমর্থকেরাও ছিলেন।

আমির খানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮) ও ‘জো জিতা ওহি সিকন্দর’–এ (১৯৯২) ইমরান শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। বড় হওয়ার পর তাঁর প্রথম সিনেমা ‘জানে তু ইয়া জানে না’ প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়। তাঁর অভিনীত ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’ ও ‘মেরে ব্রাদার্স কি দুলহন’ও বেশ জনপ্রিয় হয়। তার পর কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় অভিনয় থেকে ক্রমে দূরে সরে যান। ইমরান খান আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমালস’–এর (পেটা) সক্রিয় সমর্থক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইমরান খানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবারই তাঁরা হাইকোর্টে যাবেন। ইমরানের কাছে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। ওই কার্ড প্রাপকদের এমন কোনো শর্ত মানতে হয় না যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে অতি দ্রুততার শুনানি শেষ করতে হবে। কারণ, দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে দেশ ত্যাগ করতে বলেছে।

ইমরানের অপরাধ, বিদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ছেড়েও দেওয়া হয়। ইমরান খান (৪৩) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইমরানকে নোটিস পাঠিয়ে বলেছে, বিদেশি নাগরিক আইন বা ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার জন্য তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইমরানের মা নুজহাত খান হলেন অভিনেতা আমির খানের আপন ফুফু বা পিসি। ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন প্রদেশে তাঁর জন্ম। জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইমরান বলেন, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বা ‘ওভারসিজ ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ (ওসিআই)। তাঁর ‘ওসিআই’ পরিচয়পত্র আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, তিনি বিদেশি আইন ভঙ্গ করেছেন। মু্ম্বাই পুলিশ সেই অভিযোগপত্র এফআরআরওর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ওই সংস্থাই তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা ‘ওসিআই’ পরিচিতিপত্র পাওয়ার অধিকারী। ওসিআই কার্ডধারীরা আজীবন ভারতে আসার ভিসা পেয়ে থাকেন। তবে তাঁরা ভারতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। ভোটদানের অধিকারও তাঁদের নেই।

ইমরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মুম্বাই পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র বিজেপির সহসভাপতি কিরিট সোমাইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়ে ইমরান ‘বেআইনি রাজনৈতিক বিক্ষোভে’ অংশ নিয়ে ওসিআই ভিসা আইন ভঙ্গ করেছেন। ইমরানকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিজেপি সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘মেরি মিলবেন, আমেরিকান নাগরিক, বিজেপির পক্ষে কথা বলতে পারেন। অথচ ইমরান, যিনি একজন ওসিআই কার্ড হোল্ডার, বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না !’

আটক করার পর পুলিশ ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার এক ছবি ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন। তাতে লেখা, ‘মনে হচ্ছে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।’ একটা ভিডিও–ও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায় ইমরান ‘জয় হিন্দ’ বলছেন। আরও এক ক্লিপিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন আমাকে এখানে আনা হয়েছে। ওরা (পুলিশ) আমাদের রাস্তা থেকে তুলে নেয় ও ভ্যানে বসতে বলে।’

এরপর ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, মুম্বাইয়ের নাগরিক হিসেবে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট দাবি তাঁরা জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দাবিদাওয়া নেই। একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে এখানে এসেছি। দেখতে এসেছি কেন যাতায়াতের অধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেন মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। সিজেপির ডাকা সেদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুম্বাই পুলিশ ৬০০ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’ ও সিপিএমের কর্মী–সমর্থকেরাও ছিলেন।

আমির খানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮) ও ‘জো জিতা ওহি সিকন্দর’–এ (১৯৯২) ইমরান শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। বড় হওয়ার পর তাঁর প্রথম সিনেমা ‘জানে তু ইয়া জানে না’ প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়। তাঁর অভিনীত ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’ ও ‘মেরে ব্রাদার্স কি দুলহন’ও বেশ জনপ্রিয় হয়। তার পর কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় অভিনয় থেকে ক্রমে দূরে সরে যান। ইমরান খান আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমালস’–এর (পেটা) সক্রিয় সমর্থক।