ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবর খুঁড়েও বাধা, পাঁচ ঘণ্টা পর দাফন রবিদাস ব্যক্তির

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রবিদাস সম্প্রদায়ের দুধ লাল রবিদাস (৬০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ কবরস্থ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, দুবার কবর খোঁড়ার পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার আলোচনা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের খামার ধুবনী (মজুমদার হাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া দুধ লাল রবিদাস ওই গ্রামের মৃত সজুয়া রবিদাসের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মৃত মশিউর রহমানের ছেলে মোনারুল ইসলাম (৭০) ও সাইফুল ইসলাম (৬৭), মৃত মাহবুবুর রহমান বাবুর ছেলে সোহেলুর রহমান প্রাইজ (৪০) এবং সাইফুল ইসলামের ছেলে বাপ্পী কবির (৪২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে দুধ লাল রবিদাসের চাচা শুকরা রবিদাসের কাছ থেকে আড়াই শতাংশ জমি কেনেন মোনারুল ইসলাম। জমি কেনার পর সেখানে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তবে জমির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুধ লাল রবিদাস ও তাঁর স্বজনেরা বিরোধপূর্ণ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এর আগে ওই জমিতে দুধ লাল রবিদাসের মা-বাবার মরদেহও কবরস্থ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুধ লাল মারা যাওয়ার পর স্বজনেরা সেখানে তাঁর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, দুবার কবর খোঁড়ার পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। দুপুর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা চলে। পরে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ সময় সুন্দরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান, শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এম মাহফুজার রহমান লেলিন, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এএসএম আসাদ-উজ-জামানসহ সুন্দরগঞ্জ থানা ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এম মাহফুজার রহমান লেলিন বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির পরিবারের বসতবাড়ি ছাড়া আর কোনো জমি নেই। বাড়ির পাশেই তারা তাদের মৃত স্বজনদের কবরস্থ করেন। দুধ লাল রবিদাস মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ সেখানেই কবরস্থ করার জন্য স্বজনেরা কবর খোঁড়েন। কিন্তু একটি পক্ষ বাধা দেয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও তারা বাধা অব্যাহত রাখে। পরে দুপুর থেকে দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেলে মরদেহ সৎকার করা হয়।’

সুন্দরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় মৃত দুধ লাল রবিদাসের সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

কবর খুঁড়েও বাধা, পাঁচ ঘণ্টা পর দাফন রবিদাস ব্যক্তির

আপডেট সময় : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রবিদাস সম্প্রদায়ের দুধ লাল রবিদাস (৬০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ কবরস্থ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, দুবার কবর খোঁড়ার পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার আলোচনা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের খামার ধুবনী (মজুমদার হাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া দুধ লাল রবিদাস ওই গ্রামের মৃত সজুয়া রবিদাসের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মৃত মশিউর রহমানের ছেলে মোনারুল ইসলাম (৭০) ও সাইফুল ইসলাম (৬৭), মৃত মাহবুবুর রহমান বাবুর ছেলে সোহেলুর রহমান প্রাইজ (৪০) এবং সাইফুল ইসলামের ছেলে বাপ্পী কবির (৪২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে দুধ লাল রবিদাসের চাচা শুকরা রবিদাসের কাছ থেকে আড়াই শতাংশ জমি কেনেন মোনারুল ইসলাম। জমি কেনার পর সেখানে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তবে জমির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুধ লাল রবিদাস ও তাঁর স্বজনেরা বিরোধপূর্ণ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এর আগে ওই জমিতে দুধ লাল রবিদাসের মা-বাবার মরদেহও কবরস্থ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুধ লাল মারা যাওয়ার পর স্বজনেরা সেখানে তাঁর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, দুবার কবর খোঁড়ার পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। দুপুর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা চলে। পরে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ সময় সুন্দরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান, শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এম মাহফুজার রহমান লেলিন, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এএসএম আসাদ-উজ-জামানসহ সুন্দরগঞ্জ থানা ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এম মাহফুজার রহমান লেলিন বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির পরিবারের বসতবাড়ি ছাড়া আর কোনো জমি নেই। বাড়ির পাশেই তারা তাদের মৃত স্বজনদের কবরস্থ করেন। দুধ লাল রবিদাস মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ সেখানেই কবরস্থ করার জন্য স্বজনেরা কবর খোঁড়েন। কিন্তু একটি পক্ষ বাধা দেয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও তারা বাধা অব্যাহত রাখে। পরে দুপুর থেকে দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেলে মরদেহ সৎকার করা হয়।’

সুন্দরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় মৃত দুধ লাল রবিদাসের সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’