ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠক অনুষ্ঠিত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তাড়াশের উপজেলায় পশুর হাটে কেনাবেচা ধুম ইউএনও-কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে সড়কে আলেমদের মোনাজাত গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু গাইবান্ধায় ভেজাল হলুদ-মরিচের গুঁড়া ধ্বংস, জরিমানা দেড় লাখ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদ সড়ক ও রেলসেতুর দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকায় ভুয়া কৃষক, উদ্বোধনের দিনেই ধরা পড়লো অনিয়ম ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো অবসরপ্রাপ্ত জজের

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আদালতের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নান্নু মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলার পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর স্ত্রী মেনেকা বেগম, ছেলে মিলন মিয়া ও মিন্টু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেলকা ও শান্তিরাম মৌজার কয়েকটি জমি দলিলমূলে ক্রয় করেছিলেন নান্নু মিয়ার বাবা। পরে ওই জমি পরিবারের সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মেনেকা বেগম ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে আদালত নান্নু মিয়াদের পক্ষে রায় দেন এবং জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২১ মে দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি বসতঘর উচ্ছেদও করা হয়। পরে বিকেলের দিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালত থেকে সাত দিনের স্থগিতাদেশ এনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দেখালে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আছেন, যারা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আদালতের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নান্নু মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলার পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর স্ত্রী মেনেকা বেগম, ছেলে মিলন মিয়া ও মিন্টু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেলকা ও শান্তিরাম মৌজার কয়েকটি জমি দলিলমূলে ক্রয় করেছিলেন নান্নু মিয়ার বাবা। পরে ওই জমি পরিবারের সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মেনেকা বেগম ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে আদালত নান্নু মিয়াদের পক্ষে রায় দেন এবং জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২১ মে দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি বসতঘর উচ্ছেদও করা হয়। পরে বিকেলের দিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালত থেকে সাত দিনের স্থগিতাদেশ এনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দেখালে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আছেন, যারা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’