শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে বাড়তে থাকা নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
রোববার (২৪ মে) সকালে উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছালুয়া এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এসকেএস ফাউন্ডেশনের কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) কমিটি কর্মসূচির আয়োজন করে।
‘Justice for Ramisa’ শিরোনামে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও শিশু সহিংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ফুলছড়ি উপজেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) কমিটির সভাপতি এসএম ইব্রাহিম আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের সিআরইএ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন, প্রজেক্ট অফিসার সুলতানা বাহার, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জিকা কমিটির সদস্য আমিনুল হক, জিকা কমিটির সদস্য রিনা খাতুন, স্থানীয় অভিভাবক পাপরিন আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শুধু নারী নয়, ছেলে শিশুরাও বলৎকার ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীরাও নিরাপদ নন। সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কোনো না কোনোভাবে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তারা বলেন, শিশু রামিসার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।
স্থানীয় অভিভাবক পাপরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
আয়োজকরা জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।



















