সর্বানন্দ
সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, আলোচনার শীর্ষে চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৬:২২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ, দলীয় মনোনয়ন এবং ভোটের সমীকরণ ঘিরে পুরো ইউনিয়নজুড়ে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সরব হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার সর্বানন্দ ইউনিয়নে দলটি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলামকে মনোনয়ন না দিয়ে অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইনকে প্রার্থী ঘোষণা করে। দলীয় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই ইউনিয়নজুড়ে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে জহুরুল ইসলাম একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যেই তাদের মতামত জানাতে শুরু করেছেন।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মো. জহুরুল ইসলামের পক্ষে সমর্থনের ঢল দেখা গেছে। তার সমর্থকরা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট তার দিকেই যাবে। অনেকেই তাকে ‘মানুষের চেয়ারম্যান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আবারও তাকে দায়িত্বে দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইনও মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার সমর্থকরাও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে দুই পক্ষের তৎপরতায় ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই জমে উঠছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন সর্বানন্দ ইউনিয়নে হবে ব্যতিক্রমধর্মী। এখানে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ের কাজই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। তাই নির্বাচনের আগেই উত্তেজনা ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণ যদি আমার সঙ্গে থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচনেও অংশ নেব—ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি। তবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা। জনগণ যদি আমাকে চান, তাদের সমর্থন থাকলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে। তাদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে থাকতে চেষ্টা করেছি। এই সম্পর্কটাই আমার মূল শক্তি। আগামীতেও সেই বিশ্বাস ধরে রাখতে চাই।’
দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ইঙ্গিত—দুই মিলিয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন এখনই বেশ জমে উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, শেষ পর্যন্ত এই ইউনিয়নের নির্বাচন হয়ে উঠতে পারে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত একটি লড়াই।



















