ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠক অনুষ্ঠিত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তাড়াশের উপজেলায় পশুর হাটে কেনাবেচা ধুম ইউএনও-কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে সড়কে আলেমদের মোনাজাত গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু গাইবান্ধায় ভেজাল হলুদ-মরিচের গুঁড়া ধ্বংস, জরিমানা দেড় লাখ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদ সড়ক ও রেলসেতুর দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকায় ভুয়া কৃষক, উদ্বোধনের দিনেই ধরা পড়লো অনিয়ম ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো অবসরপ্রাপ্ত জজের

সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকায় ভুয়া কৃষক, উদ্বোধনের দিনেই ধরা পড়লো অনিয়ম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনেই সামনে এসেছে ভুয়া কৃষকের তথ্য। জেলা প্রশাসকের সামনেই তালিকাভুক্ত এক কৃষকের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফোনের ওপাশের ব্যক্তি জানান, তিনি ওই কৃষককে চেনেন না, এমনকি নম্বরটিও তার নয়। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের খানকাশরীফ এলাকার খাদ্য গুদামে সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষকদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসক দৈবচয়নের মাধ্যমে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষাণী ফরিদা পারভিনের নামে তালিকাভুক্ত একটি মোবাইল নম্বরে (০১৮৮৯৭৬৮২৩৫) ফোন দেন। কিন্তু ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি জানান, নম্বরটি তার হলেও ফরিদা পারভিন নামে কাউকে তিনি চেনেন না। এতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ১৮৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরবরাহ করতে পারবেন।

উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন, সাঘাটায় ১ হাজার ৫১, সাদুল্লাপুরে ১ হাজার ১৪৬, সুন্দরগঞ্জে ১ হাজার ৯৬৫, গোবিন্দগঞ্জে ২ হাজার ৩৭৬, পলাশবাড়ীতে ৯২১ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ভুয়া কৃষকের তালিকা তৈরির অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মিথ্যা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই তালিকার আড়ালে গুদামে ধান সরবরাহ করে সরকারি টাকা তুলে নেয়।

উদ্বোধনের দিনেই ভুয়া কৃষকের তথ্য সামনে আসায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহল নিজেদের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, অনেক প্রকৃত কৃষক আবেদন করেও তালিকায় স্থান পাননি। অথচ যাদের জমি নেই বা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদের নামও তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরাসরি কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করি না। এসব তালিকা কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। তবে যেহেতু ভুয়া তথ্যের বিষয়টি সামনে এসেছে, পুরো জেলার তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকায় ভুয়া কৃষক, উদ্বোধনের দিনেই ধরা পড়লো অনিয়ম

আপডেট সময় : ১০:২৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

গাইবান্ধায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনেই সামনে এসেছে ভুয়া কৃষকের তথ্য। জেলা প্রশাসকের সামনেই তালিকাভুক্ত এক কৃষকের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফোনের ওপাশের ব্যক্তি জানান, তিনি ওই কৃষককে চেনেন না, এমনকি নম্বরটিও তার নয়। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি ধান ক্রয়ের তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের খানকাশরীফ এলাকার খাদ্য গুদামে সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষকদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসক দৈবচয়নের মাধ্যমে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষাণী ফরিদা পারভিনের নামে তালিকাভুক্ত একটি মোবাইল নম্বরে (০১৮৮৯৭৬৮২৩৫) ফোন দেন। কিন্তু ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি জানান, নম্বরটি তার হলেও ফরিদা পারভিন নামে কাউকে তিনি চেনেন না। এতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ১৮৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরবরাহ করতে পারবেন।

উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন, সাঘাটায় ১ হাজার ৫১, সাদুল্লাপুরে ১ হাজার ১৪৬, সুন্দরগঞ্জে ১ হাজার ৯৬৫, গোবিন্দগঞ্জে ২ হাজার ৩৭৬, পলাশবাড়ীতে ৯২১ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ভুয়া কৃষকের তালিকা তৈরির অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মিথ্যা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই তালিকার আড়ালে গুদামে ধান সরবরাহ করে সরকারি টাকা তুলে নেয়।

উদ্বোধনের দিনেই ভুয়া কৃষকের তথ্য সামনে আসায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহল নিজেদের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, অনেক প্রকৃত কৃষক আবেদন করেও তালিকায় স্থান পাননি। অথচ যাদের জমি নেই বা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদের নামও তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরাসরি কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করি না। এসব তালিকা কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। তবে যেহেতু ভুয়া তথ্যের বিষয়টি সামনে এসেছে, পুরো জেলার তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।