ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত শিক্ষক সাধন চক্রবর্তীকে বাঁচাতে সহায়তা দরকার মস্কোর পার্কে হামলার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর কিশোরকে আটক করল রাশিয়া কেমব্রিজের কুয়াশায় ক্রিস্টোফার রাউন্ডের ছায়া: প্রেম, ঈর্ষা ও এক অশান্ত আত্মার গল্প অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ কীভাবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাহরুখ ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক ক্যারিয়ার সচেতনতা নিয়ে জানলেন শিক্ষার্থীরা ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আদালতের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নান্নু মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলার পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর স্ত্রী মেনেকা বেগম, ছেলে মিলন মিয়া ও মিন্টু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেলকা ও শান্তিরাম মৌজার কয়েকটি জমি দলিলমূলে ক্রয় করেছিলেন নান্নু মিয়ার বাবা। পরে ওই জমি পরিবারের সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মেনেকা বেগম ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে আদালত নান্নু মিয়াদের পক্ষে রায় দেন এবং জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২১ মে দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি বসতঘর উচ্ছেদও করা হয়। পরে বিকেলের দিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালত থেকে সাত দিনের স্থগিতাদেশ এনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দেখালে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আছেন, যারা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নিজেদের ঘর ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আদালতের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নান্নু মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলার পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর স্ত্রী মেনেকা বেগম, ছেলে মিলন মিয়া ও মিন্টু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেলকা ও শান্তিরাম মৌজার কয়েকটি জমি দলিলমূলে ক্রয় করেছিলেন নান্নু মিয়ার বাবা। পরে ওই জমি পরিবারের সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মেনেকা বেগম ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে আদালত নান্নু মিয়াদের পক্ষে রায় দেন এবং জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২১ মে দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি বসতঘর উচ্ছেদও করা হয়। পরে বিকেলের দিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালত থেকে সাত দিনের স্থগিতাদেশ এনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দেখালে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আছেন, যারা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’