সংকটে স্বস্তি জিকে ক্যানেলের পানি
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা ফসল চাষের মৌসুম শুরুতেই বড় স্বস্তি পেয়েছেন। জিকে সেচ ক্যানেলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় তারা বিনা খরচে বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতে পারছেন। পানির এই সহজলভ্যতা বিশেষ করে ডিজেল সংকটের মধ্যে কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। শুষ্ক মৌসুমে যদি ক্যানেলে পানি না থাকে, তবে কৃষকরা শ্যালো মেশিনে ডিজেল ব্যবহার করে পানি দিতে হয়, যা খরচ বাড়ায় এবং ফসলের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ বছর ক্যানেলের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা সহজে এবং ঝামেলামুক্তভাবে তাদের জমিতে সেচকার্য চালাতে পারছেন।
২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্প থেকে পানি ছাড়া শুরু হয়। দুটি পাম্পের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষকরা এই পানির সুবিধা পাচ্ছেন। জিকে ক্যানেলের আওতায় প্রধান খাল ৪১ কিলোমিটার, টারশিয়ারি খাল ২৬৩ কিলোমিটার, সেকেন্ডারি খাল ৭৫ কিলোমিটার এবং মাঠনালা ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ জল সরবরাহ ব্যবস্থা চুয়াডাঙ্গার ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর ফসলি জমিকে সেচের আওতায় আনে।
কৃষকরা জানান, ক্যানেলের পানি ব্যবহার করলে ফসলের রং গাঢ় সবুজ হয় এবং জমিতে পানি দীর্ঘ সময় থাকে। অতিরিক্ত মেশিন ভাড়া, ডিজেল ও শ্রম খরচ এভাবে কমে যায়। পানি আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত হওয়ায় ফসলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। কৃষক হাসমত আলি বলেন, ‘বোরো মৌসুমে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করলে অনেক ঝামেলা হয়। এবার ক্যানেলের পানি ব্যবহার করে সহজে ফসলের সেচ দিতে পারছি। ফসল সতেজ এবং সবুজ দেখাচ্ছে।’ আলমডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিনা খরচে ধান ও অন্যান্য ফসলের পানি দিতে পারছি। আগে শ্যালো মেশিন ও ডিজেলের খরচের কারণে অনেক অতিরিক্ত খরচ হতো। এখন সুবিধা হচ্ছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাম্প হাউসের মাধ্যমে ক্যানেলে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ক্যানেলের পানি নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছালে কৃষকরা তাদের ফসলে নিয়মিত পানি দিতে পারবেন এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাষ সম্পন্ন করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য কৃষকদের পাশে থাকা এবং সুবিধা নিশ্চিত করা।’
অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার উল্লেখ করেন, ‘কৃষকরা নির্দিষ্ট সময়ে পানি পেলে তাদের ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং খরচ কম হবে। জিকে ক্যানেল সেচ ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করছে।’
এ বছর চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন কৃষক জিকে ক্যানেলের পানি ব্যবহার করে ফসল চাষ করছেন। ক্যানেলের পানি থাকায় শ্যালো মেশিন ব্যবহার বন্ধ রয়েছে। কৃষক নূর ইসলাম জানান, ‘এভাবে ঝামেলামুক্তভাবে ফসল চাষ করতে পারব, ভাবতেও পারিনি। এখন যে কোনো সময় পানি ব্যবহার করতে পারছি এবং ফসল নিরাপদ।’
সার্বিকভাবে দেখা যায়, জিকে সেচ ক্যানেলের পানি কৃষকদের জন্য শুধু সেচের সুবিধা নয়, বরং খরচ ও ঝুঁকি কমিয়ে দিচ্ছে। এটি কৃষকদের ফসলের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও উন্নত করছে। চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বিনা খরচে, ঝামেলামুক্ত ও সময়মতো পানি পাওয়ার জন্য এই সেচ প্রকল্পকে বরণ করে নিয়েছেন। কৃষি কাজ সহজ হওয়ায় তারা নতুন ফসলের পরিকল্পনা করার মতো সময় ও মনোযোগও পাচ্ছেন। জিকে ক্যানেলের পানি কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে এক ধরনের আশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক, যা শুষ্ক মৌসুমে তাদের জীবিকা রক্ষা করছে।






















