চুলার পাশে স্বপ্নের কারখানা, সৈয়দপুরে নারীদের নীরব বিপ্লব
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

উত্তরের ছোট শহর সৈয়দপুর। একসময় যেখানে নারীদের পরিচয় সীমাবদ্ধ ছিল ঘর-সংসারে, সেখানে এখন চুপচাপ বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। রান্নাঘরের চুলার পাশে তৈরি হচ্ছে শুধু কেক নয়, গড়ে উঠছে স্বপ্ন, আত্মনির্ভরতা আর নতুন পরিচয়ের গল্প।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ওঠে ছোট ছোট রান্নাঘর। ওভেনে ঢোকে কেক, আর কিছুক্ষণ পর সেটাই হয়ে ওঠে কারও জন্মদিনের আনন্দ, কারও ভালোবাসার উপহার। এই সাধারণ দৃশ্যের আড়ালেই চলছে এক নীরব বিপ্লব।
বর্তমানে সৈয়দপুরে অন্তত ২৫ জনের বেশি নারী হোমমেড কেক তৈরি ও হোম ডেলিভারির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তারা ঘরে বসেই গড়ে তুলছেন নিজেদের ব্যবসা।
এই পথচলার অনুপ্রেরণার গল্পগুলোর একটি লুবনার। শহরের বাশবাড়ি এলাকার এই শিক্ষার্থী অনার্স শেষ বর্ষে পড়ছেন। অনলাইন কোর্সে কেক বানানো শিখে শুরু করেছিলেন যাত্রা। এখন ‘লুবনা কেক হেভেন’ নামে তার ফেসবুক পেজে প্রতিদিনই আসে অর্ডার। কখনো চাহিদা এত বেশি হয় যে অর্ডার ফিরিয়েও দিতে হয়।
৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের কেক বিক্রি করেন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেও সহায়তা করছেন নিয়মিত। তার ভাষায়, ‘মানুষ এখন স্বাস্থ্যকর, ঘরে তৈরি কেকের দিকে বেশি ঝুঁকছে। আমার স্বপ্ন একদিন নিজের কেকের রেস্টুরেন্ট খোলা।’
একইভাবে সাহেবপাড়ার তাসমিম কলি মিম—একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী—তিন বছর ধরে কেক বানাচ্ছেন। ‘মিমস প্রেটি বেকিং’ নামে তার উদ্যোগ এখন বেশ পরিচিত। প্রতিদিন ৩-৫টি কেক তৈরি করে মাসে খরচ বাদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন।
আরেক উদ্যোক্তা নওশিন তারান্নুম বলেন, ‘একটা কেক শুধু কেক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ। আমরা যখন বাসায় কেক বানাই, তখন মানের ব্যাপারে বেশি সচেতন থাকি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুরে বর্তমানে অন্তত ২৫টির বেশি হোমমেড কেক পেজ সক্রিয়। এসব উদ্যোগের মধ্যে ‘লুবনা কেক হেভেন’, ‘মিমস প্রেটি বেকিং’, ‘টেক এন্ড টেস্ট’সহ আরও অনেক ছোট ছোট উদ্যোগ ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এই কেকগুলো শুধু খাবার নয়—এগুলোতে ফুটে ওঠে ভালোবাসা, সৃজনশীলতা, কখনো প্রিয় মানুষের মুখ, কখনো কোনো পেশা বা শখের প্রতিচ্ছবি।
অল্প পুঁজিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন অনেক নারীর জন্য স্থায়ী আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। রান্নাঘরের ছোট্ট জায়গা থেকেই তারা বদলে দিচ্ছেন নিজেদের জীবন, আর নীরবে লিখে চলেছেন স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন গল্প।

























