ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবারের এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০০৮৪ জন এমপির ছেলেকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, নাটোর জেলা বিএনপির বিশেষ সভা বন্ডে বিনিয়োগ কতটা লাভজনক, কী বিবেচনা করতে হবে ব্যালন ডি’অর: কে কত পয়েন্ট পেলেন, কোন দেশ কাকে ভোট দিল মৌসুমী–ওমর সানীর দুই সন্তান কে কোথায়, কী করছেন শুটিংয়ে ভূতের মুখোমুখি, হ্যালোইনে জানুন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার গল্প

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। সর্বশেষ ৭ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ মোট ১২৫ বার পেছাল, যা দেশের আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে দীর্ঘসূত্রতার এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম নতুন করে ৭ মে তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় আবারও পেছাতে হলো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।

মামলাটিতে রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু (মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তাদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আটক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।

মামলার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নির্দেশনায় বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিতের দাবি বারবার উঠলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি খুবই ধীরগতির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছাল

আপডেট সময় : ১১:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। সর্বশেষ ৭ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ মোট ১২৫ বার পেছাল, যা দেশের আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে দীর্ঘসূত্রতার এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম নতুন করে ৭ মে তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় আবারও পেছাতে হলো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।

মামলাটিতে রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু (মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তাদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আটক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।

মামলার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নির্দেশনায় বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিতের দাবি বারবার উঠলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি খুবই ধীরগতির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।