যুদ্ধের ছায়ায় বাড়ছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ১১:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (ড্রাফট) পুনরায় চালু হতে পারে—এমন আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও সরকারিভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রশাসনের অস্পষ্ট বক্তব্য, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য-গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্বেগও বাড়ছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনীর বিশেষ ইউনিট মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে সম্ভাব্য বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি চালু রাখা বা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো লক্ষ্য সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের অবস্থানও স্পষ্ট নয়। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে প্রেসিডেন্ট সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। এই ধরনের বক্তব্যই মূলত জনমনে বিভ্রান্তি ও আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, তরুণদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি নতুন কিছু নয়; বরং পূর্বের বিদ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন মাত্র।
গুঞ্জনের পেছনে আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সেনাবাহিনীর নিয়োগ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন। বয়সসীমা বাড়ানো এবং কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে অনেকে মনে করছেন সেনাবাহিনীতে সদস্যসংকট তৈরি হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে, নির্ধারিত লক্ষ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে।
এদিকে তথ্যযুদ্ধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। গবেষকদের মতে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ফলে বাস্তবতা ও গুজবের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই বিতর্কে রাজনৈতিক অঙ্গনও সরব। গ্যাভিন নিউসম বাধ্যতামূলক সামরিক বা সামাজিক সেবা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও তরুণদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের সেবা বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি স্পর্শকাতর। অতীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের ধারণাকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ইস্যু নতুন করে সামনে আসায় তার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু সামরিক নয়, সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও ফেলছে। বাস্তবে বাধ্যতামূলক নিয়োগ চালুর সম্ভাবনা কম থাকলেও অনিশ্চয়তা ও গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মনে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।























