বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধ খেলার মাঠে সবজি চাষ
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

কেশবপুর উপজেলার কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধ খেলার মাঠে এবার গড়ে উঠেছে বিষমুক্ত সবজির বাগান। সেই সবজি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকত। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তো ব্যাহত হতোই, একই সঙ্গে মাঠটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকত। এ অবস্থার পরিবর্তনে চলতি বছর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু এনে মাঠটি উঁচু করে।
মাঠ উঁচু করার পর শিক্ষকরা সেখানে লালশাক, ঘি-কাঞ্চনশাক ও ডাঁটাশাকের বীজ বপন করেন। প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে চাষ করা এসব সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্তভাবে উৎপাদন করা হয়েছে। কোনো ধরনের কীটনাশক বা রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত মঙ্গল ও বুধবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ প্রায় ১৫০ জনের মধ্যে এসব সবজি বিতরণ করা হয়েছে। যে মাঠ একসময় পানিতে ডুবে থাকত, সেই মাঠে সবজি উৎপাদন দেখে এলাকার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার ব্রহ্ম বলেন, প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাঠটি উঁচু করা হয়েছে। পরে শিক্ষকদের পরামর্শে সেখানে সবজি চাষ করা হয়। উৎপাদিত সবজি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি সবজি পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সবজি সংগ্রহ শেষে মাঠটি খেলাধুলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে এবং শিগগিরই বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থীরাও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দীপু পশারী, সপ্তম শ্রেণির পৃথা মণ্ডল ও ষষ্ঠ শ্রেণির মিম ইসলাম জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি পেয়ে তারা আনন্দিত। পাশাপাশি মাঠটি খেলার উপযোগী হওয়ায় তারা এখন নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শেখ তরিকুল ইসলাম সুমন বলেন, তিনিও বিদ্যালয়ের মাঠে উৎপাদিত সবজি গ্রহণ করেছেন। অভিভাবক সন্তোষ সরকার জানান, দীর্ঘদিন পর মাঠটি ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এলাকার শিশু-কিশোরদের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়।
স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ শুধু একটি মাঠ সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক কৃষি শিক্ষার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক এমন উদ্যোগ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

























