ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার শঙ্কায় হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী এখন বাধ্য হয়ে হেলমেট পরে হলে বসছেন।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

এই পরিস্থিতিতে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেছেন। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে বলা যায় না, তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।’ আরেক শিক্ষার্থী নয়ন জানান, ‘গতকাল আমার দুই সহপাঠী আহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ভয় নিয়েই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।’

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নেতারা প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলোতেই পাঠদান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ফলস সিলিংয়ের কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি, এখন তা অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সার্বিকভাবে, শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করে নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নিরাপত্তার শঙ্কায় হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী এখন বাধ্য হয়ে হেলমেট পরে হলে বসছেন।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

এই পরিস্থিতিতে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেছেন। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে বলা যায় না, তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।’ আরেক শিক্ষার্থী নয়ন জানান, ‘গতকাল আমার দুই সহপাঠী আহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ভয় নিয়েই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।’

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নেতারা প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলোতেই পাঠদান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ফলস সিলিংয়ের কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি, এখন তা অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সার্বিকভাবে, শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করে নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।