ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ৫ মামলায় ৩০ লাখ টাকা জরিমানা 

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের জোরালো অভিযানে ৫টি পৃথক মামলায় মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজওয়ান-উল-ইসলাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ইটভাটা কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কৃষিজমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ভাটাগুলোতে অবৈধভাবে টপ সয়েল সংগ্রহ, কাঠ পোড়ানো এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন করা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে মেসার্স শাহ জব্বারিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (4BM), বিসমিল্লাহ ব্রিকস (BBM-2), চরম্বা রহমানিয়া ব্রিকস (CRB), মেসার্স ইসলাম ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (IBM) এবং মেসার্স শাহ মজিদিয়া ব্রিকস (BRB) নামের পাঁচটি ইটভাটাকে প্রতিটি ৬ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং তা আদায় নিশ্চিত করে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ইটভাটার কার্যক্রমের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, বনজ সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে এবং বায়ু দূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব-৭, আনসার, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানের প্রশংসা করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছিল লোহাগাড়া। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ৫ মামলায় ৩০ লাখ টাকা জরিমানা 

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের জোরালো অভিযানে ৫টি পৃথক মামলায় মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজওয়ান-উল-ইসলাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ইটভাটা কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কৃষিজমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ভাটাগুলোতে অবৈধভাবে টপ সয়েল সংগ্রহ, কাঠ পোড়ানো এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন করা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে মেসার্স শাহ জব্বারিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (4BM), বিসমিল্লাহ ব্রিকস (BBM-2), চরম্বা রহমানিয়া ব্রিকস (CRB), মেসার্স ইসলাম ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (IBM) এবং মেসার্স শাহ মজিদিয়া ব্রিকস (BRB) নামের পাঁচটি ইটভাটাকে প্রতিটি ৬ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং তা আদায় নিশ্চিত করে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ইটভাটার কার্যক্রমের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, বনজ সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে এবং বায়ু দূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব-৭, আনসার, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানের প্রশংসা করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছিল লোহাগাড়া। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।