ডোমারের মমতা ক্লিনিকে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
সিজারের বিল না দিতে পারায় নবজাতক বিক্রির চাপ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে অভিযোগের ভিত্তিতে ডোমার উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভুক্তভোগী দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসান ও তার স্ত্রী হাবিবা সুলতানা জানান, গত শুক্রবার রাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন হাবিবা। ভর্তির সময় ২২ হাজার টাকা খরচের কথা বলা হলেও অপারেশনের পর তারা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিল পরিশোধ করতে না পারায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে মা ও স্বজনদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এমনকি রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো—টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক সন্তান বিক্রি করে বিল মেটানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। গত দুই দিনে ৩-৪ জন লোক এসে শিশুটির জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়। পরিকল্পনা ছিল, সেই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা পরিবারকে দিয়ে শিশুটি হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ক্লিনিকটিতে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি—এটি সঠিক নয়। শুধুমাত্র বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।”
অভিযান শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগসহ একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত ক্লিনিকটি বন্ধ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


























