ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোট সম্পর্কে জানে না চাটখিলের জনসাধারণ: সরকারি প্রচারণা শুধুই ব্যানারে

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের জনসাধারণ গণভোট সম্পর্কে জানে না, সরকারি প্রচরণা শুধুই ব্যানারে। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ-নিজ দলের প্রতীকে ভোট চাইলেও গণভোটের প্রচারণায় বিমুখ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সাথে গণভোট বিষয়ে কথা হলে তারা কেউ বলতে পারেনি গণভোট কী বা কেন! অনেকেই জানান তারা প্রতিবেদকের কাছে গণভোট বিষয়ে প্রথম শুনেছেন। প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করে গণভোটের বিষয়ে অবহিত করতে সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন।

গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে ১নং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ খোকন জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে লিফলেট দেওয়া হয়েছে, সেই লিফলেট বিভিন্ন বাজারে-বাজরে বিতরণ করা হয়েছে। ৩নং পরকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহার আলম মুন্সিও একই কথা বলেন। ৫নং মোহাম্মদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাহালুল জানান তার ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কোনো মাইকিং করা হয়নি। ৮নং নোয়াখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মানিক জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে গণভোটের প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচারণার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিষদ চত্বরে ব্যানার লাগানো হয়েছে এবং উপজেলা থেকে সরবরাহকৃত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে মাইকিং সহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো সম্ভব হবে।

উপজেলার খিলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি আলম চৌধুরী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ জানান, গণভোটের প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গণভোটের প্রচারণায় ব্যানার লাগানো হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো লিফলেট দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষকরা সরকারি নিদের্শনার আলোকে মৌখিক প্রচারণা চালিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার এবং পৌরসভা থেকে ১০ হাজার লিফলেট বিতরণের জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে চাটখিলের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দুর বক্তব্যের সঙ্গে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বক্তব্য ও বাস্তবতা অভিন্ন। চাটখিল উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনসাধারণের বসবাস। এখানে ৩০ হাজার লিফলেট বিতরণ করে প্রচারণা সর্বসাধারণের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করে গণভোটের বিষয়ে অবহিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গণভোট সম্পর্কে জানে না চাটখিলের জনসাধারণ: সরকারি প্রচারণা শুধুই ব্যানারে

আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের জনসাধারণ গণভোট সম্পর্কে জানে না, সরকারি প্রচরণা শুধুই ব্যানারে। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ-নিজ দলের প্রতীকে ভোট চাইলেও গণভোটের প্রচারণায় বিমুখ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সাথে গণভোট বিষয়ে কথা হলে তারা কেউ বলতে পারেনি গণভোট কী বা কেন! অনেকেই জানান তারা প্রতিবেদকের কাছে গণভোট বিষয়ে প্রথম শুনেছেন। প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করে গণভোটের বিষয়ে অবহিত করতে সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন।

গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে ১নং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ খোকন জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে লিফলেট দেওয়া হয়েছে, সেই লিফলেট বিভিন্ন বাজারে-বাজরে বিতরণ করা হয়েছে। ৩নং পরকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহার আলম মুন্সিও একই কথা বলেন। ৫নং মোহাম্মদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাহালুল জানান তার ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কোনো মাইকিং করা হয়নি। ৮নং নোয়াখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মানিক জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে গণভোটের প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচারণার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিষদ চত্বরে ব্যানার লাগানো হয়েছে এবং উপজেলা থেকে সরবরাহকৃত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে মাইকিং সহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো সম্ভব হবে।

উপজেলার খিলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি আলম চৌধুরী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ জানান, গণভোটের প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গণভোটের প্রচারণায় ব্যানার লাগানো হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো লিফলেট দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষকরা সরকারি নিদের্শনার আলোকে মৌখিক প্রচারণা চালিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার এবং পৌরসভা থেকে ১০ হাজার লিফলেট বিতরণের জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে চাটখিলের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দুর বক্তব্যের সঙ্গে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বক্তব্য ও বাস্তবতা অভিন্ন। চাটখিল উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনসাধারণের বসবাস। এখানে ৩০ হাজার লিফলেট বিতরণ করে প্রচারণা সর্বসাধারণের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করে গণভোটের বিষয়ে অবহিত করা।