দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর ১০০ দিনের কার্যক্রম ও অগ্রগতির হিসাব দিলো রাকসু
- আপডেট সময় : ১১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ তম দিন পূর্তি উপলক্ষে কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে ‘রাকসুর ১০০ দিন কার্যক্রম, পর্যালোচনা এবং জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এক সেমিনার আয়োজন করেছে। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে রাকসুর বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ ও অভিযোগও গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে সচল হওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে শিক্ষার্থীদের আবাসন, একাডেমিক সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ মোট ৫৫টি উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি করেছে ছাত্র সংসদ।
গত ১০০ দিনে সম্পন্ন হওয়া ৫৫ টি কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে নিরাপদ পানির ফিল্টার স্থাপন; খাবার ও বাজার মনিটরিং ; বৃক্ষরোপণ; শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের নতুন হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত; শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ; মাদক নির্মূল অভিযান; রাবি ফুটবল টিমকে ১১ টি ফুটবল ও বিপস প্রদান করা।
এছাড়াও নারী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে খেলার মাঠ ও জিমনেশিয়াম চালু; ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা কর্ণার স্থাপন; কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় মেয়েদের জন্য অবসর সময় কাটানো, স্বাচ্ছন্দ্যে বসে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নামাজ আদায়ের জন্য একটি আলাদা নির্দিষ্ট সুব্যবস্থা; হিজাব বিতরণ কর্মসূচী; ছাত্রীদের চিত্তবিনোদনের কথা বিবেচনা করে রাকসুর উদ্যোগে উক্ত রুমে কিছু বইও প্রদান করা হয়েছে। রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে মেয়েদের নামাজের জায়গায় কার্পেট বিছানো এবং অযুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাসব্যাপী Mind Care Campaign ২০২৬ এর আয়োজন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে অতিথি হিসেবে এনে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার আয়োজন; ‘সাইবার হুমকি এবং ডিজিটাল প্রতিরক্ষা’ শীর্ষক কর্মশালা; আমাদের সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও এবনে গোলাম সামাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই শীর্ষক সেমিনার;রিসার্চ বিষয়ক সেমিনার;শহীদ ওসমান হাদির স্মরনে বুদ্ধিবৃত্তিক সেমিনার;শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ: আমাদের চিন্তার মুক্তি কত দূর শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল। বিজয় দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠান। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এছাড়া লাইব্রেরির রিডিং রুম এবং ডিসকাশন রুমের সময় বৃদ্ধি; আইকিউএসি পরিচালকের সাথে টিচার্স ইভালুয়েশনের পলিসি নিয়ে আলোচনা; নিবন্ধিত ক্লাবসমূহের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভ্যেনুর ভাড়া হ্রাস ও ক্ষেত্র বিশেষে ভাড়া মওকুফ এর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদকের উদ্যোগে লাইব্রেরিতে নতুন কয়েকটি রাউটার সংযোজন ও ক্যাম্পাসে ইন্টারনেটের এরিয়াল ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনের সহযোগিতায় হরাইজন্টাল ফাইবার অপটিক লাইন প্রতিস্থাপন এবং সংযোগ স্থাপন করা হয়। হল ভিত্তিক বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য রাকসুর পক্ষ থেকে সহায়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান নাট্য রচনা প্রতিযোগিতা; শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বুদ্ধিজীবি চত্ত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, শহীদুল্লাহ্ কলা ভবনের আশপাশের ড্রেন, নর্দমা গুলো পরিচ্ছন্নতা অভিযান; এছাড়া রাকসু সাহিত্যপত্র এর কাজ চলমান রয়েছে।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্দিরের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ; সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এশক-এ কাওয়ালীর আয়োজন করা হয়েছে।
রাজশাহীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য বিসিএস পরীক্ষা উপলক্ষে রাকসুর পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য ০৮টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। থিসিস শিক্ষার্থীদের ১০,০০০ টাকা করে প্রণোদনা; ‘হাজার বছর ধরে’ চলচিত্র প্রদর্শনি; বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ক্লাবগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ক্যাফেটেরিয়ায় ফ্রিতে রুম ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বাজেটের বিষয়ে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাকসু বাজেট ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে জানান ।
অনুষ্ঠানে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) জানান, শপথ গ্রহণের পর প্রথম সাড়ে তিন মাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১০৩টি কাজ সম্পন্ন করেছে রাকসু। এর মধ্যে বাজেট সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো । ফলত বাজেট প্রদান না করে রাকসুকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। তবে এ অজুহাতে বসে না থেকে আমরা প্রায় ১০৩টি কাজ সম্পন্ন করেছি। ইশতেহার পূরণে বর্তমান মোট বাজেটের চেয়ে ৮ গুণ অর্থ বেশি প্রয়োজন হবে। অর্থ ম্যানেজ করে ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করতে আমরা বদ্ধপরিকর । আমরা ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারসহ মোট ১৩০টি কাজ সম্পন্ন করতে চাই।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যেভাবে ডাকসুকে মূল্যায়ন করছে, রাকসুকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমাদের বলা হয় কোন তদন্তমূলক জায়গায় আমরা যেতে পারবো না।তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে আমার কি লাভ? আমরা কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছি।
এসময় রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রজমান ভিপি, জিএস, এজিএস সহ রাকসু প্রতিনিধি, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।























