জবিতে এখনো বৃত্তির টাকা হাতে পাননি ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ বিতরণের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় ২০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে বৃত্তির অর্থ পৌঁছে গেলেও এখনো প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী টাকা পাননি। এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাংক তথ্যের অসঙ্গতি এবং অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াগত জটিলতা দায়ী বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বৃত্তির তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ বলেন, “আমার নাম বৃত্তির তালিকায় এসেছে এবং আমি ব্যাংক তথ্যও পূরণ করেছি। অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এলেও আমারটায় আসেনি। পরে আইডিতে লগইন করে দেখি ব্যাংকের কোনো তথ্যই দেখাচ্ছে না। এখন কী করব সেটাও বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে সম্পূরক বৃত্তির আবেদনকারী শিক্ষার্থী মিনহাজ আনসারী পলক বলেন, “আমি সম্পূরক বৃত্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম আসেনি। অথচ আমার কয়েকজন সহপাঠী পরে ব্যাংক তথ্য আপডেট করার সুযোগ পেয়ে টাকা পেয়েছে। এখন কোথায় যোগাযোগ করলে সমাধান পাব, সেটাই জানতে চাই।”
বৃত্তির টাকা পেতে বিলম্ব হওয়ায় এমন অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থী গৌরব ভৌমিক বলেন, “সামান্য ৯ হাজার টাকায় হয়তো কারও দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ হবে না। কিন্তু অনেকেই এই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেছে। কেউ ঋণ পরিশোধ করবে, কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাবে। যদি বিলম্বের কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তাহলে প্রশাসনের উচিত সেটি পরিষ্কারভাবে শিক্ষার্থীদের জানানো।”
আরেক শিক্ষার্থী মাহিদ হাসান ব্যঙ্গ করে বলেন, “আবাসন ভাতার যে অবস্থা, টাকা পাই বা না পাই। মনে হচ্ছে প্রশাসনের জন্যই দান তহবিল খোলা দরকার, তাহলে হয়তো তাদের একটু বোধোদয় হবে।”
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর তথ্যে অতিরিক্ত স্পেস, ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ব্যবহার, শাখার নাম উল্লেখ না করা বা অন্যান্য তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে, তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া কিছু ব্যাংকে তুলনামূলক কমসংখ্যক অ্যাকাউন্ট থাকায় সেসব ক্ষেত্রেও অর্থ পৌঁছাতে সময় লাগছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর তথ্যে ছোটখাটো ভুল রয়েছে। এসব তথ্য সংশোধন করে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অন্যদিকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। তাদের বৃত্তি শাখায় যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে হবে। সংশোধিত তথ্য ব্যাংকে পৌঁছালে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের অর্থও পাঠানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে অর্থ ও তথ্য অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখা পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, শুরু থেকেই বৃত্তির অর্থ বিতরণ সংক্রান্ত অগ্রগতি ও সমস্যাগুলো নিয়মিতভাবে জানানো হলে এত বিভ্রান্তি তৈরি হতো না।
অন্যদিকে ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থের কোনো সংকট নেই। তথ্যগত ত্রুটি এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণেই এ বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বাকি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

















