ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুরুল হক নুরকে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির শোকজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচন পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ, বরিশাল সাব্বির মো. খালিদ গত ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এ শোকজ নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৫ (ক) এবং ১৬ (গ), (ছ) লঙ্ঘনের শামিল।

এছাড়াও নোটিশে আরও বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পাগলা বাজার সেল্টার, চরবোরহান এলাকায় অবস্থিত নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মী-সমর্থকদের আহত করা হয়। এ ঘটনায় নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়, যা উক্ত আচরণ বিধিমালার ৬ (ক) ধারার পরিপন্থী।

বর্ণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে অবস্থিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শোকজ নোটিশটি দ্রুত নুরুল হক নুরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের আইনজীবী এ কে এম এনামুল হক (রতন) বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময়ে সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে। এ কারণেই আমরা আইনগতভাবে বিচার প্রার্থনা করেছি। আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কালাম পঞ্চায়েত ও দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. লিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা সময়মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে শোকজ নোটিশের জবাব প্রদান করবো।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল হক নুরের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি হাতে পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নুরুল হক নুরকে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির শোকজ

আপডেট সময় : ০৬:১১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচন পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ, বরিশাল সাব্বির মো. খালিদ গত ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এ শোকজ নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৫ (ক) এবং ১৬ (গ), (ছ) লঙ্ঘনের শামিল।

এছাড়াও নোটিশে আরও বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পাগলা বাজার সেল্টার, চরবোরহান এলাকায় অবস্থিত নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মী-সমর্থকদের আহত করা হয়। এ ঘটনায় নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়, যা উক্ত আচরণ বিধিমালার ৬ (ক) ধারার পরিপন্থী।

বর্ণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে অবস্থিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শোকজ নোটিশটি দ্রুত নুরুল হক নুরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের আইনজীবী এ কে এম এনামুল হক (রতন) বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময়ে সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে। এ কারণেই আমরা আইনগতভাবে বিচার প্রার্থনা করেছি। আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কালাম পঞ্চায়েত ও দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. লিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা সময়মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে শোকজ নোটিশের জবাব প্রদান করবো।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল হক নুরের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি হাতে পেয়েছি এবং নোটিশের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।