ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে দলের নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর ওয়ারিশি সম্পত্তি দখল করে ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছে এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির সাবেক নেতা হলেও বর্তমানে কোনো সাংগঠনিক পদে নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৫০) নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারহাট বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিফাহ কাউসার ইবনে জায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৩০০ বছর পুরোনো ওয়ারিশি সম্পত্তির জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তাদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নেতৃত্বে একদল লোক ‘প্রিন্স কোকারিজ’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘর নির্মাণ করে জায়গাটি দখল করে নেয়। পরে সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি টানিয়ে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের অনুমতি বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জমিটি দখল করা হয়েছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেলিম বলেন, ব্যবসায়ীর জমি দখলের অভিযোগ সত্য। বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে লোক পাঠানো হলেও অভিযুক্ত কাউকে তোয়াক্কা করেননি। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ আল ফারুক দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর হঠাৎ দেশে ফিরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। দলের ভেতরে তাকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জায়গাটি তার খরিদা সম্পত্তি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করার সময় সামনের অংশ ড্রেনের জন্য নেওয়া হয়েছে, বাকি জায়গায় তিনি ঘর নির্মাণ করেছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে দলের নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর ওয়ারিশি সম্পত্তি দখল করে ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছে এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির সাবেক নেতা হলেও বর্তমানে কোনো সাংগঠনিক পদে নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৫০) নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারহাট বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিফাহ কাউসার ইবনে জায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৩০০ বছর পুরোনো ওয়ারিশি সম্পত্তির জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তাদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নেতৃত্বে একদল লোক ‘প্রিন্স কোকারিজ’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘর নির্মাণ করে জায়গাটি দখল করে নেয়। পরে সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি টানিয়ে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের অনুমতি বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জমিটি দখল করা হয়েছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেলিম বলেন, ব্যবসায়ীর জমি দখলের অভিযোগ সত্য। বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে লোক পাঠানো হলেও অভিযুক্ত কাউকে তোয়াক্কা করেননি। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ আল ফারুক দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর হঠাৎ দেশে ফিরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। দলের ভেতরে তাকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জায়গাটি তার খরিদা সম্পত্তি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করার সময় সামনের অংশ ড্রেনের জন্য নেওয়া হয়েছে, বাকি জায়গায় তিনি ঘর নির্মাণ করেছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।