ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই কি আরব দলগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির জাপানে চার দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি এসআরবির অভিযানের সময় তরুণের মৃত্যু, গুলি করেছে কে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বড় নিয়োগ হচ্ছে হানিফসহ চার আসামির অপরাধ কী, মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও তাঁরা কী কী সাজা পেলেন নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

ড্রেনেই ডেঙ্গুর ঠিকানা, দুর্ঘটনার ফাঁদে ফরিদপুর পৌরসভা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। খোলা ও ভাঙাচোরা ড্রেনে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে তেমনি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে।

পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত অসংখ্য ড্রেন ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও স্ল্যাব ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে, আবার অনেক জায়গায় পুরোপুরি উন্মুক্ত ড্রেন। এসব ড্রেনের ওপর রাখা ফুটপাত শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলের জন্য মারাত্মক অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ড্রেনগুলো চোখে না পড়ায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ও তীব্র দুর্গন্ধ। ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী, গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক, খোদা বক্স রোড, চরকমলাপুর, নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা ও জেলা কারাগারের সামনে ড্রেনেজ সমস্যার চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। অনেক স্থানে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে ড্রেন ঢেকে রাখা হলেও তা টেকসই নয় বলে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

অরক্ষিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোলা ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে, বাড়ছে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি। শিশুদের খেলাধুলার সময় এসব ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, বর্তমানে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা স্থানীয় না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শহরের সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না। তার ভাষায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা থাকলে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝে কাজ করা সহজ হতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে পৌরসভার ফান্ড প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ায় এখন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন জানান, ড্রেনেজ সংস্কার ও ঢাকনা বসানোর জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ নাগরিকদের এই দুর্ভোগের অবসান হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত খোলা ড্রেনগুলো ঢেকে দেওয়া, ভাঙা স্ল্যাব মেরামত এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পৌরসভার কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ড্রেনেই ডেঙ্গুর ঠিকানা, দুর্ঘটনার ফাঁদে ফরিদপুর পৌরসভা

আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। খোলা ও ভাঙাচোরা ড্রেনে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে তেমনি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে।

পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত অসংখ্য ড্রেন ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও স্ল্যাব ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে, আবার অনেক জায়গায় পুরোপুরি উন্মুক্ত ড্রেন। এসব ড্রেনের ওপর রাখা ফুটপাত শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলের জন্য মারাত্মক অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ড্রেনগুলো চোখে না পড়ায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ও তীব্র দুর্গন্ধ। ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী, গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক, খোদা বক্স রোড, চরকমলাপুর, নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা ও জেলা কারাগারের সামনে ড্রেনেজ সমস্যার চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। অনেক স্থানে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে ড্রেন ঢেকে রাখা হলেও তা টেকসই নয় বলে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

অরক্ষিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোলা ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে, বাড়ছে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি। শিশুদের খেলাধুলার সময় এসব ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, বর্তমানে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা স্থানীয় না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শহরের সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না। তার ভাষায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা থাকলে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝে কাজ করা সহজ হতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে পৌরসভার ফান্ড প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ায় এখন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন জানান, ড্রেনেজ সংস্কার ও ঢাকনা বসানোর জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ নাগরিকদের এই দুর্ভোগের অবসান হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত খোলা ড্রেনগুলো ঢেকে দেওয়া, ভাঙা স্ল্যাব মেরামত এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পৌরসভার কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।