পরিত্যক্ত ভাসানী হল এখন ট্রাক স্ট্যান্ড সাংস্কৃতিক কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল শহরের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ভাসানী হল জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে গত আট বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে হলের আঙ্গিনা ট্রাক ম্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শহরের ঐতিহ্যের অংশে এই হলটি বহরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখরিত থাকত, যা এখন মাদক ও অনৈতিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে রাংত।
আবুল ফজল ১৯৭৬ সালে হলটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খান এ আলম খান ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করেণ। ফজল তখন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন।
পরবর্তীতে, টাঙ্গাইলের ভৎকালীন মেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহর তত্ত্বাবধানে পরবর্তী দুই বছরে হলটির আধুনিকীকরণ করা হয়। পরবর্তীতে, নির্যাতিত ও নিপীড়িতদের নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নামে হলটির নামকরণ করা হয়।
একসময় বিনোদন ছিলো মানুষের জীবনের গল্প। কারন মানুষ মানুষের কাছে ছিলো। তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠতো। গড়ে উঠতো একে অপরের সাথে আত্মিক সম্পর্ক
ভাসানী হল ছিলো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক চর্চার প্রজনন কেন্দ্র। অসংখ্য শিল্পী কলাকুশলী তৈরি হয়েছে এখান থেকে। অথচ এখন ভাসানী হলটি দেখে মনে হয় তীব্র যন্ত্রণা ও কষ্ট নিয়ে গুপ্তর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভাসানী হলের এই অবস্থা দেখে শিল্পী সত্তা রয়েছে জেলার এমন মানুষ সকলেরই মন কেঁদে ওঠে।
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান। ভাসানীর নামে নামকরনই কি ভাসানী হলের করুন জবস্থার জন্য দায়ী। অবজ্ঞা অবহেলার কারণে আজ ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে থেকেও ময়লার ভাগার, পাংসস্তুণ, অবৈষ পিকআপ ও ট্রাক স্ট্যান্ডে পরিনত হয়েছে।
নতুন সরকার গঠন হয়েছে এবং টাঙ্গাইল সদরবাসী দীর্ঘ ৩৪ বছর পরে একজন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছে এখনও কি সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রাণকেন্দ্র ও সবচাইতে বড় ও ঐতিহ্যবাহী কালচারাল হাবটির বেহাল দশা থাকবে? অন্যকোনও বানিজ্যকরণ বাদে সুন্দর কিড জোন, ফুলের বাগান, কার পার্কিং, ঘোস্ট রুম, প্রাকটিস রুম, সিনেপ্লেক্স, থিয়েটার, সিনিয়র সিটিজেনদের বসার জায়গা, ফুড কর্নারসহ একটি আধুনিক হল পুননির্মাণ এখন সময়ের
দাবী, আমাদের এই শহরের মানুষের ব্রিদিং স্পেসের জন্য। একটি রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক দো মানসিক স্বাস্থ্য ও মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়। আগামীর সুস্থ সবল প্রয়ানা গড়ে তুলতে তাই
ভাসানী হলই হতে পারে আমাদের সেই হারিয়ে ফেলা ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির স্থান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংস্কৃতিক বান্ধব ছিলেন উনি কবিরপুর ফিল্য সিটি, একুশে পদক, স্বাধীনল্লা পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং নতুন শিল্পী তৈরি করার জন্য নতুন কুড়ির মতো জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম করে গিয়েছেন। বর্তমান সরকার ঐঐতিহ্যবাহী ভাসানী হলটি পুনঃনির্মান করবে এটি এখন টাঙ্গাইল জেলার সকল সাংস্কৃতিক কর্মিদের প্রাণের দাবী।

























