ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র এইচএসসিতে কমেছে জিপিএ-৫ এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবারের এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০০৮৪ জন এমপির ছেলেকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, নাটোর জেলা বিএনপির বিশেষ সভা বন্ডে বিনিয়োগ কতটা লাভজনক, কী বিবেচনা করতে হবে

ইতালির নীল সমুদ্রে বসনিয়ার ঝড়

ক্রীড়া ডেস্ক 
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইতালীয় ফুটবলের নীল আকাশে ফের কালো মেঘ ঘনঘটা করছে। টানা দুই বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকার পর ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অন্তত দেখা মিলবে বলে আশা করেছিলেন ইতালির ভক্তরা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের দল হিসেবে ইতালির প্রতি প্রত্যাশা ছিল বড়ই। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের লড়াইয়ে দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল।

ম্যাচ শুরুতেই ইতালি ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে যায়। ১৫ মিনিটে নিকোলো বারেল্লার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ময়েস কিন গোল করেন। পুরো প্রথমার্ধে ইতালির আধিপত্য ছিল বল দখল এবং আক্রমণে, তবে বসনিয়ার রক্ষণব্যুহ তাদের লক্ষ্যভেদে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ৪১ মিনিটে ডিফেন্ডার আলেসসান্দ্রো বাস্তোনির ফাউলের কারণে দল ১০ জনে নেমে আসে, যা ম্যাচের চিত্রকে একেবারেই পরিবর্তন করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইতালির সুযোগ নষ্ট হয়, এবং ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হারিস তাবাকোভিচ সমতা ফিরিয়ে দেন।

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই গোলের জন্য চেষ্টা চালায়, কিন্তু সমতা ভাঙতে পারেনি কেউ। টাইব্রেকারে বসনিয়া নিখুঁত খেলায় ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে, যা ইতালির ভক্তদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরাজয় ইতালির জন্য ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক অধ্যায় তৈরি করেছে—টানা তিনবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়া তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

ইতালির হার শুধু তাদের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নীল জার্সিধারী দলটি আগের মতো আধিপত্য দেখিয়েছে, আক্রমণে সক্রিয় থেকেছে, তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং সমাপ্তিতে ভাগ্যহীনতা তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং নীল ঢেউয়ের আবেগ মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগাতে পারলেও তা ফলাফলকে বদলাতে পারেনি।

অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য প্লে-অফে প্রতিযোগিতা তীব্র ছিল। রবার্ট লেভানডস্কির নেতৃত্বে সুইডেন পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে চেক রিপাবলিক বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নিয়েছে। তুরস্ক ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে জায়গা পায় কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে।

আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফেও উত্তেজনা লেগেই আছে। ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল, জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইরাকও ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে, বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে। এই পরাজয় ও সফলতার সমন্বয় ফুটবল বিশ্বের জন্য দেখাচ্ছে যে, প্রস্তুতি, মনোযোগ এবং কিছুটা ভাগ্যই নির্ধারণ করছে বিশ্বকাপের আসল প্রতিযোগিতার মান।

এখন ইতালির সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এই লজ্জাজনক অধ্যায় থেকে বের হয়ে নিজেদের পুনর্গঠন করা। নীল সমুদ্রে তাদের হারানো স্বপ্ন পুনরুদ্ধার করতে হলে ফিনিশিং উন্নত করা, সমন্বয় বাড়ানো এবং মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করা আবশ্যক। বেদনার নীল রঙ আজ্জুরিদের জন্য এক শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে রইল, যা ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ইতালির নীল সমুদ্রে বসনিয়ার ঝড়

আপডেট সময় : ০৪:১৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইতালীয় ফুটবলের নীল আকাশে ফের কালো মেঘ ঘনঘটা করছে। টানা দুই বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকার পর ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অন্তত দেখা মিলবে বলে আশা করেছিলেন ইতালির ভক্তরা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের দল হিসেবে ইতালির প্রতি প্রত্যাশা ছিল বড়ই। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের লড়াইয়ে দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল।

ম্যাচ শুরুতেই ইতালি ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে যায়। ১৫ মিনিটে নিকোলো বারেল্লার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ময়েস কিন গোল করেন। পুরো প্রথমার্ধে ইতালির আধিপত্য ছিল বল দখল এবং আক্রমণে, তবে বসনিয়ার রক্ষণব্যুহ তাদের লক্ষ্যভেদে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ৪১ মিনিটে ডিফেন্ডার আলেসসান্দ্রো বাস্তোনির ফাউলের কারণে দল ১০ জনে নেমে আসে, যা ম্যাচের চিত্রকে একেবারেই পরিবর্তন করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইতালির সুযোগ নষ্ট হয়, এবং ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হারিস তাবাকোভিচ সমতা ফিরিয়ে দেন।

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই গোলের জন্য চেষ্টা চালায়, কিন্তু সমতা ভাঙতে পারেনি কেউ। টাইব্রেকারে বসনিয়া নিখুঁত খেলায় ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে, যা ইতালির ভক্তদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরাজয় ইতালির জন্য ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক অধ্যায় তৈরি করেছে—টানা তিনবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়া তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

ইতালির হার শুধু তাদের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নীল জার্সিধারী দলটি আগের মতো আধিপত্য দেখিয়েছে, আক্রমণে সক্রিয় থেকেছে, তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং সমাপ্তিতে ভাগ্যহীনতা তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং নীল ঢেউয়ের আবেগ মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগাতে পারলেও তা ফলাফলকে বদলাতে পারেনি।

অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য প্লে-অফে প্রতিযোগিতা তীব্র ছিল। রবার্ট লেভানডস্কির নেতৃত্বে সুইডেন পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে চেক রিপাবলিক বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নিয়েছে। তুরস্ক ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে জায়গা পায় কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে।

আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফেও উত্তেজনা লেগেই আছে। ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল, জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইরাকও ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে, বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে। এই পরাজয় ও সফলতার সমন্বয় ফুটবল বিশ্বের জন্য দেখাচ্ছে যে, প্রস্তুতি, মনোযোগ এবং কিছুটা ভাগ্যই নির্ধারণ করছে বিশ্বকাপের আসল প্রতিযোগিতার মান।

এখন ইতালির সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এই লজ্জাজনক অধ্যায় থেকে বের হয়ে নিজেদের পুনর্গঠন করা। নীল সমুদ্রে তাদের হারানো স্বপ্ন পুনরুদ্ধার করতে হলে ফিনিশিং উন্নত করা, সমন্বয় বাড়ানো এবং মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করা আবশ্যক। বেদনার নীল রঙ আজ্জুরিদের জন্য এক শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে রইল, যা ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণা হতে পারে।