ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোরবেলায় ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূমিকম্প হলে করণীয়— ভোরবেলায় ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক। ভোররাতে ভূকম্পন, আতঙ্ক ছড়াল বিভিন্ন এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোরবেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪.১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও কম্পনের কারণে অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে আতঙ্কিত হয়ে ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যা প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয়, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করুন এবং গাছ, বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। ঘরের ভেতরে থাকলে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন। শক্ত বিম বা দেয়ালের পাশে অবস্থান করুন। বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিরাপদ থাকুন। চলন্ত গাড়িতে থাকলে গাড়ি থামিয়ে ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন। ভূমিকম্প থামার পর দ্রুত বের হতে হলে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করুন

জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সতর্কতা জরুরি বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, গার্মেন্টস, কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এলাকায় মানুষ বেশি থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ভূমিকম্পের সময় অনেকে আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হন। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্পকালীন করণীয় বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়া চালুর দাবি উঠেছে।

বিল্ডিং কোড না মানলে ঝুঁকি বাড়ে দেশে বসবাসযোগ্য জায়গা কম হওয়ায় দ্রুত বহুতল ভবন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করায় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সচেতন মহল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় ডিজাইনে নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জলাশয় ভরাট ও পাহাড় কাটাও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ায় জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলে মাটি আলগা হয়ে যায়। ফলে ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়া বা হেলে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। একইভাবে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ করলে ভূমিকম্পে আলগা মাটি ধসে পড়ে জানমালের বড় ক্ষতি হতে পারে।

সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা না গেলেও সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও প্রয়োজন সচেতন হওয়া এবং ভূমিকম্পকালীন নিয়ম মেনে চলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ভোরবেলায় ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমিকম্প হলে করণীয়— ভোরবেলায় ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক। ভোররাতে ভূকম্পন, আতঙ্ক ছড়াল বিভিন্ন এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোরবেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪.১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও কম্পনের কারণে অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে আতঙ্কিত হয়ে ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যা প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয়, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করুন এবং গাছ, বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। ঘরের ভেতরে থাকলে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন। শক্ত বিম বা দেয়ালের পাশে অবস্থান করুন। বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিরাপদ থাকুন। চলন্ত গাড়িতে থাকলে গাড়ি থামিয়ে ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন। ভূমিকম্প থামার পর দ্রুত বের হতে হলে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করুন

জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সতর্কতা জরুরি বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, গার্মেন্টস, কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এলাকায় মানুষ বেশি থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ভূমিকম্পের সময় অনেকে আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হন। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্পকালীন করণীয় বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়া চালুর দাবি উঠেছে।

বিল্ডিং কোড না মানলে ঝুঁকি বাড়ে দেশে বসবাসযোগ্য জায়গা কম হওয়ায় দ্রুত বহুতল ভবন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করায় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সচেতন মহল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় ডিজাইনে নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জলাশয় ভরাট ও পাহাড় কাটাও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ায় জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলে মাটি আলগা হয়ে যায়। ফলে ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়া বা হেলে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। একইভাবে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ করলে ভূমিকম্পে আলগা মাটি ধসে পড়ে জানমালের বড় ক্ষতি হতে পারে।

সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা না গেলেও সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও প্রয়োজন সচেতন হওয়া এবং ভূমিকম্পকালীন নিয়ম মেনে চলা।