১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন
নীলফামারীর জনসভায় নায়েবে আমীর আজহারুল
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ও গণভোটে হ্যাঁ সুচকের ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে জামায়াতের ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আমরা দূর্নীবাজদের লাল কার্ড দেখাতে চাই। দেশে মানুষ এখন সব বুঝে গেছে। তাই এখন মানুষ কারো চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পায় না। কোন দলের লোক কেমন। কোন দলের নেতারা কে কি করেছে। কারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওয়াদা রক্ষা করে না। কারা মানুষের হক নষ্ট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এবিষয়গুলো এখন সকলেরই জানা। তাই মানুষকে লোভ দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার দিন শেষ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিকালে নীলফামারী জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জামায়াত আয়োজিত নীলফামারী ২ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতিফের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে তারা বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়ে দেশের অর্থ পাচার করে আলিশান জীবন যাপন করছেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা জামায়াতে ইসলামী করি, আমরা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। অথচ আমরা ফাঁসিতে ঝুলেছি তারপরও বিদেশে পালিয়ে যাইনি। কোন দেশে তারা (পতিত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা) আশ্রয় নিয়েছে- সেই ভারত। আমাদের দেশকে কে আক্রমণ করতে পারে, একমাত্র ভারত।
তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা কখনো অন্যায় দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল না আগামীতে কখনো দুর্নীতি করবেও না। দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ অর্থ পাচারকারী আলেম-ওলামা এবং বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের হত্যাকারী ও ইসলাম বিরোধীদের ২৪শের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যেভাবে বয়কট করেছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলই জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে চাঁদাবাজ ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসর এবং সন্ত্রাসী ও জুলুমবাজদের চির জীবনের জন্য বয়কট করার আহবান জানান তিনি।
তিনি উপস্থিত জনগণের প্রতি দাঁড়িপাল্ল প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে একই দিনে হ্যাঁ ভোট প্রদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন মানবিক নেতা ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ডা. শফিকুর রহমান। তিনি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার যে লড়াই চলছে, সেই গণভোট অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট শুধু একটি সনদের পক্ষে নয়, বরং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইনসাফের প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, বর্তমানে তরুণ সমাজসহ দেশের সর্বস্তরের নাগরিক ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী সদর আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা আমীর ও নীলফামারী-১ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা আহবায়ক আব্দুল মজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান প্রমুখ।

























