ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতার্ত মানুষের পাশে আলীকদম সেনা জোন, কুরুকপাতায় ১০০ পরিবারে কম্বল বিতরণ

বান্দরবান প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০০০ থেকে ১২০০ ঘটিকা পর্যন্ত আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সিন্ধুমুখ পাড়া, ইন্দুমুখ পাড়া ও বড় আগলা পাড়া—এই তিনটি সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় মোট ১০০টি পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় আলীকদম সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন,

“পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আলীকদম সেনা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,

“পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা সশস্ত্র গ্রুপের যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য আমি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে তিনি এলাকার সকল অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে যুবসমাজকে পড়াশোনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

তিনি বলেন,

“শিক্ষাই পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আলীকদমে অবস্থিত মূরং কমপ্লেক্সের কথা উল্লেখ করে বলেন,

“বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মূরং কমপ্লেক্সে সুবিধাবঞ্চিত মূরং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতে পারেন। তাদের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব আলীকদম সেনা জোন গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে মূরং সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি যুবসমাজকে মাদক ও সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শীতার্ত মানুষের পাশে আলীকদম সেনা জোন, কুরুকপাতায় ১০০ পরিবারে কম্বল বিতরণ

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০০০ থেকে ১২০০ ঘটিকা পর্যন্ত আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সিন্ধুমুখ পাড়া, ইন্দুমুখ পাড়া ও বড় আগলা পাড়া—এই তিনটি সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় মোট ১০০টি পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় আলীকদম সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন,

“পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আলীকদম সেনা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,

“পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা সশস্ত্র গ্রুপের যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য আমি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে তিনি এলাকার সকল অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে যুবসমাজকে পড়াশোনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

তিনি বলেন,

“শিক্ষাই পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আলীকদমে অবস্থিত মূরং কমপ্লেক্সের কথা উল্লেখ করে বলেন,

“বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মূরং কমপ্লেক্সে সুবিধাবঞ্চিত মূরং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতে পারেন। তাদের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব আলীকদম সেনা জোন গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে মূরং সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি যুবসমাজকে মাদক ও সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাবে।