বাউফল আসনে মুখোমুখি লড়াই, নবীন বনাম প্রবীণ
- আপডেট সময় : ০৮:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল আসনে আসন্ন নির্বাচনে জমে উঠেছে আলোচনার পারদ। ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা—কোন প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তা নিয়ে সাধারণ ভোটাররা প্রকাশ্যে খুব একটা মুখ খুলছেন না। তবে নারী ভোটারদের কেউ কেউ ইশারা-ইঙ্গিতে নিজের মত জানালেও সরাসরি কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না। আর যারা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন, তারা স্পষ্টভাবেই নিজেদের পছন্দের মার্কার কথা বলছেন।
বাউফল আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৬১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২ জন, যা প্রায় পুরুষ ভোটারের সমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নারী ভোট যে প্রার্থী বেশি অর্জন করতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে থাকবেন।
তরুণ ভোটারদের পছন্দও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারী ও তরুণ ভোটাররা যদি একই দিকে ঝুঁকে পড়েন, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদার। তিনিই প্রথম বিএনপিকে বাউফল আসনে বিজয় এনে দেন। একসময় যে আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে বিএনপির অবস্থান শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ৪৭ বছর বয়সী এই নেতা একজন সুপরিচিত বক্তা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। বিনয়ী স্বভাব ও হাসিখুশি আচরণের কারণে অল্প সময়েই বাউফলবাসীর মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই নেতা অনেকের কাছে ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিপদে পড়লে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান।
এ ছাড়া বিভিন্ন দলের আরও চারজন প্রার্থী থাকলেও তারা প্রচার-প্রচারণায় তেমন সক্রিয় নন। স্থানীয়দের বড় একটি অংশ তাদের প্রার্থী হিসেবেই তেমন চেনে না। বাউফলের ভোটারদের আলোচনায় মূলত দুটি নামই ঘুরে ফিরে আসছে—সহিদুল আলম তালুকদার ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
একজন প্রবীণ, অন্যজন নবীন—বাউফল আসনে এবারের নির্বাচন তাই অনেকের কাছেই ‘নবীন বনাম প্রবীণ’-এর লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি কার মুখে ফুটে ওঠে—ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা।


























