ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী মধ্যবয়সী নারীর ব্যথা, কারণ কি মেনোপজ জেলে-কন্যা লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা, কাঁদলেন মা-মেয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন, সময় একই আছে এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মন গলছে না চীনের রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলা, সকালে কাশবনে মেয়ের লাশ, দুপুরে বাবার মৃত্যু ‘এক সপ্তাহ ধরে বেচাবিক্রি নেই, কিস্তির টাকা কেমনে দেব’ জামায়াত থেকে আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে চায় এনসিপি, লংমার্চে উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা দলটির পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ এবার এনসিটিবির সদস্যসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন ড্রেস আর ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবে যশোরের দুই শত শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছয় বছর বয়সী লামিয়া আক্তার জিনিয়ার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। এক হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, অন্য হাতে নতুন স্কুল ড্রেসের প্যাকেট। চেয়ারে বসে বারবার লাল রঙের ব্যাগটি নেড়েচেড়ে দেখছে সে। পাশে দাঁড়িয়ে তার মা নাজমা বেগম। মেয়ের হাতে নতুন ব্যাগ আর ড্রেস দেখে তিনিও আনন্দে আপ্লুত।

যশোর শহরের বেজপাড়া আমতলার বাসিন্দা লামিয়ার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। নতুন শ্রেণির বই পেলেও লামিয়ার স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ ছিল না। বই পাওয়ার পর থেকেই নতুন ব্যাগ আর ড্রেসের আবদার শুরু হয়। কীভাবে কিনে দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন নাজমা বেগম। সেই দুশ্চিন্তা দূর করেছে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশন।

শুধু লামিয়া নয়, যশোর শহরের হতদরিদ্র পরিবারের এমন দুই শত শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দুই সেট করে নতুন স্কুল ড্রেস, একটি স্কুল ব্যাগ এবং স্কুলে ভর্তি ও অন্যান্য খরচের জন্য তিন হাজার টাকা।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের নলডাঙ্গা রোডে রিপন অটোস প্রাইভেট লিমিটেডের মিলনায়তনে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের আয়োজনে ‘সর্বজনীন শিক্ষা কর্মসূচি’র আওতায় এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিশুদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।

নাজমা বেগম বলেন, স্বামী না থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, ছোট মেয়ে লামিয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ কেনার সামর্থ্য ছিল না। নতুন পোশাক ও ব্যাগ পেয়ে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, তার বাবা একজন শ্রমিক। অল্প আয়ে সংসার চলে, নতুন ইউনিফর্ম কেনা ছিল কল্পনার বাইরে। জরাজীর্ণ পোশাক পরে স্কুলে যেতে হতো। নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে সে ভীষণ খুশি। একই অনুভূতি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাগতা সেনেরও। তার বাবা মুদি দোকানের বিক্রয়কর্মী। নতুন ব্যাগ আর ড্রেস পেয়ে সে উচ্ছ্বসিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের সহায়তা সমাজের বিত্তবানদের আরও বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। কেউ যেন শুধু অভাবে স্কুলছুট না হয়, সেটাই লক্ষ্য। তিনি বলেন, এটি মূলত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যখন তা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তখন আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কথা জানান তিনি।

অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, অনেক দরিদ্র পরিবার আছে যাদের পক্ষে স্কুল ব্যাগ বা ইউনিফর্ম কেনা সম্ভব নয়। এই সহায়তায় শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে।

আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের সভাপতি এজাজ উদ্দিন টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাছুম ও ফারুক হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, রিপন অটোসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আইয়াজ উদ্দিন রিপন, যশোর পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড মহল্লা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ শফিক রতনসহ অন্যান্যরা।

আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশন সামাজিক কাজ করে আসছে। সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারীকে বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা, তিন শতাধিক নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর বয়স্ক ভাতা হিসেবে ১৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দরিদ্র শিশুদের জন্য দুই সেট নতুন পোশাক, স্কুলে ভর্তির জন্য তিন হাজার টাকা এবং মানসম্মত স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নতুন ড্রেস আর ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবে যশোরের দুই শত শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ছয় বছর বয়সী লামিয়া আক্তার জিনিয়ার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। এক হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, অন্য হাতে নতুন স্কুল ড্রেসের প্যাকেট। চেয়ারে বসে বারবার লাল রঙের ব্যাগটি নেড়েচেড়ে দেখছে সে। পাশে দাঁড়িয়ে তার মা নাজমা বেগম। মেয়ের হাতে নতুন ব্যাগ আর ড্রেস দেখে তিনিও আনন্দে আপ্লুত।

যশোর শহরের বেজপাড়া আমতলার বাসিন্দা লামিয়ার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। নতুন শ্রেণির বই পেলেও লামিয়ার স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ ছিল না। বই পাওয়ার পর থেকেই নতুন ব্যাগ আর ড্রেসের আবদার শুরু হয়। কীভাবে কিনে দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন নাজমা বেগম। সেই দুশ্চিন্তা দূর করেছে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশন।

শুধু লামিয়া নয়, যশোর শহরের হতদরিদ্র পরিবারের এমন দুই শত শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দুই সেট করে নতুন স্কুল ড্রেস, একটি স্কুল ব্যাগ এবং স্কুলে ভর্তি ও অন্যান্য খরচের জন্য তিন হাজার টাকা।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের নলডাঙ্গা রোডে রিপন অটোস প্রাইভেট লিমিটেডের মিলনায়তনে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের আয়োজনে ‘সর্বজনীন শিক্ষা কর্মসূচি’র আওতায় এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। শিশুদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।

নাজমা বেগম বলেন, স্বামী না থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, ছোট মেয়ে লামিয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ কেনার সামর্থ্য ছিল না। নতুন পোশাক ও ব্যাগ পেয়ে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, তার বাবা একজন শ্রমিক। অল্প আয়ে সংসার চলে, নতুন ইউনিফর্ম কেনা ছিল কল্পনার বাইরে। জরাজীর্ণ পোশাক পরে স্কুলে যেতে হতো। নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে সে ভীষণ খুশি। একই অনুভূতি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাগতা সেনেরও। তার বাবা মুদি দোকানের বিক্রয়কর্মী। নতুন ব্যাগ আর ড্রেস পেয়ে সে উচ্ছ্বসিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের সহায়তা সমাজের বিত্তবানদের আরও বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। কেউ যেন শুধু অভাবে স্কুলছুট না হয়, সেটাই লক্ষ্য। তিনি বলেন, এটি মূলত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যখন তা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তখন আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কথা জানান তিনি।

অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, অনেক দরিদ্র পরিবার আছে যাদের পক্ষে স্কুল ব্যাগ বা ইউনিফর্ম কেনা সম্ভব নয়। এই সহায়তায় শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে।

আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের সভাপতি এজাজ উদ্দিন টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাছুম ও ফারুক হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, রিপন অটোসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আইয়াজ উদ্দিন রিপন, যশোর পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড মহল্লা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ শফিক রতনসহ অন্যান্যরা।

আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে আসাদ স্মৃতি ইন্সটিটিউশন সামাজিক কাজ করে আসছে। সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারীকে বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা, তিন শতাধিক নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর বয়স্ক ভাতা হিসেবে ১৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দরিদ্র শিশুদের জন্য দুই সেট নতুন পোশাক, স্কুলে ভর্তির জন্য তিন হাজার টাকা এবং মানসম্মত স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয়েছে।