ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পকেটে মুঠোফোন রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, কী বলছেন চিকিৎসকেরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুরুষদের অনেকেই প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে ফোন বহন করলে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো প্রভাব পড়ে কি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাই বা কী বলছে?

.

মুঠোফোন ছাড়া এ সময়ে একটি মুহূর্ত কল্পনা করা কঠিন। চাকরি, যোগাযোগ, ইন্টারনেট, দরকারি তথ্য কিংবা ব্যাংকিং লেনদেন—বলতে গেলে ফোন ছাড়া আমরা অচল। পুরুষেরা সাধারণত প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন বহন করেন। এতে প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আলোচনা।
ভারতের ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথ কেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব আগরওয়াল জানান, এ বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও উচিত নয়। বরং গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে বোঝা জরুরি।

শুক্রাণুর ওপর ফোনের প্রভাব নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণ হয়েছে। যার মধ্যে ১৮টি গবেষণা ও ৪ হাজারের বেশি বীর্যের নমুনা একত্রিত করে করা একটি বিশ্লেষণও আছে। গবেষণায় মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটা সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

.পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি কেন হয়, কীভাবে বাড়ানো যায়.

তবে শুক্রাণুর মোট সংখ্যা বা ঘনত্বের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন রাখলে ফোনটি অণ্ডকোষের খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। কিছু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ অবস্থায় শুক্রাণুর ওপর ফোনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বেশি হতে পারে। এর পেছনে গবেষকেরা দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।

প্রথমত, মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো আমাদের শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল ও সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে শুক্রাণুর কোষের ক্ষতি হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ফোন থেকে উৎপন্ন তাপ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতেও শুক্রাণুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, সুস্থ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের মূল তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন।
তবে এসবই গবেষণাগারে চালানো পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে।

.

ড. আগরওয়াল জানান, গবেষণাগারের ফলাফল ও বাস্তব পর্যবেক্ষণের জরিপের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করেছেন তাঁরা। কারণ, সন্তান ধারণের চেষ্টারত প্রকৃত দম্পতিদের ওপর পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় দেখা গেছে, পকেটে ফোন রাখার অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান বা গর্ভধারণের সময়ের কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক নেই।

কাজেই এটি বন্ধ্যত্বের কোনো প্রমাণিত কারণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ উদ্বেগজনক তথ্যই এসেছে গবেষণাগারের পরীক্ষা বা জরিপ থেকে, প্রকৃত ফলাফল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে আগরওয়াল স্বীকার করেন, উৎস যা-ই হোক না কেন, শুক্রাণুর গুণমান বা স্বাস্থ্যের অবনতির ক্ষেত্রে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, কো-এনজাইম কিউ টেন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমায় ও শুক্রাণুর সচলতা বা গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

.৮০ পেরিয়েও যাঁদের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, তাঁদের সবার মধ্যে একটাই মিল.

তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুঠোফোন থেকে নির্গত বিকিরণের ফলে শুক্রাণুর যে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হয়, কো-এনজাইম কিউ টেন ঠিক সেই জৈবিক প্রক্রিয়ার ওপরই কাজ করে। নির্দিষ্টভাবে ফোনের বিকিরণজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে এটি কোনো প্রমাণিত প্রতিষেধক নয় ঠিকই, তবে সামগ্রিকভাবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার জোরালো প্রমাণ রয়েছে।
কো-এনজাইম কিউ টেন-ই একমাত্র উপাদান নয়; র‍্যান্ডম ট্রায়ালে জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং লাইকোপেনেরও শুক্রাণুর ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখার প্রমাণ মিলেছে। জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য উন্নত করে এবং লাইকোপেন অক্সিডেটিভ ডিএনএ ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

এই প্রমাণের ভিত্তিতেই পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধির চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলেই মুঠোফোনকে দায়ী করা উচিত নয়। এর পেছনে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যাও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যথাযথ পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

.ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ আছে দেশেও, তবে যে কেউ কি চাইলেই তা করতে পারেন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পকেটে মুঠোফোন রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, কী বলছেন চিকিৎসকেরা

আপডেট সময় : ০৪:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুরুষদের অনেকেই প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে ফোন বহন করলে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো প্রভাব পড়ে কি? চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাই বা কী বলছে?

.

মুঠোফোন ছাড়া এ সময়ে একটি মুহূর্ত কল্পনা করা কঠিন। চাকরি, যোগাযোগ, ইন্টারনেট, দরকারি তথ্য কিংবা ব্যাংকিং লেনদেন—বলতে গেলে ফোন ছাড়া আমরা অচল। পুরুষেরা সাধারণত প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন বহন করেন। এতে প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আলোচনা।
ভারতের ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথ কেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব আগরওয়াল জানান, এ বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও উচিত নয়। বরং গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে বোঝা জরুরি।

শুক্রাণুর ওপর ফোনের প্রভাব নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণ হয়েছে। যার মধ্যে ১৮টি গবেষণা ও ৪ হাজারের বেশি বীর্যের নমুনা একত্রিত করে করা একটি বিশ্লেষণও আছে। গবেষণায় মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটা সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

.পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি কেন হয়, কীভাবে বাড়ানো যায়.

তবে শুক্রাণুর মোট সংখ্যা বা ঘনত্বের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন রাখলে ফোনটি অণ্ডকোষের খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। কিছু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ অবস্থায় শুক্রাণুর ওপর ফোনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বেশি হতে পারে। এর পেছনে গবেষকেরা দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।

প্রথমত, মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো আমাদের শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল ও সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে শুক্রাণুর কোষের ক্ষতি হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ফোন থেকে উৎপন্ন তাপ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতেও শুক্রাণুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, সুস্থ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের মূল তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন।
তবে এসবই গবেষণাগারে চালানো পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে।

.

ড. আগরওয়াল জানান, গবেষণাগারের ফলাফল ও বাস্তব পর্যবেক্ষণের জরিপের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করেছেন তাঁরা। কারণ, সন্তান ধারণের চেষ্টারত প্রকৃত দম্পতিদের ওপর পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় দেখা গেছে, পকেটে ফোন রাখার অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান বা গর্ভধারণের সময়ের কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক নেই।

কাজেই এটি বন্ধ্যত্বের কোনো প্রমাণিত কারণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ উদ্বেগজনক তথ্যই এসেছে গবেষণাগারের পরীক্ষা বা জরিপ থেকে, প্রকৃত ফলাফল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে আগরওয়াল স্বীকার করেন, উৎস যা-ই হোক না কেন, শুক্রাণুর গুণমান বা স্বাস্থ্যের অবনতির ক্ষেত্রে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, কো-এনজাইম কিউ টেন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমায় ও শুক্রাণুর সচলতা বা গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

.৮০ পেরিয়েও যাঁদের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, তাঁদের সবার মধ্যে একটাই মিল.

তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুঠোফোন থেকে নির্গত বিকিরণের ফলে শুক্রাণুর যে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হয়, কো-এনজাইম কিউ টেন ঠিক সেই জৈবিক প্রক্রিয়ার ওপরই কাজ করে। নির্দিষ্টভাবে ফোনের বিকিরণজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে এটি কোনো প্রমাণিত প্রতিষেধক নয় ঠিকই, তবে সামগ্রিকভাবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার জোরালো প্রমাণ রয়েছে।
কো-এনজাইম কিউ টেন-ই একমাত্র উপাদান নয়; র‍্যান্ডম ট্রায়ালে জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং লাইকোপেনেরও শুক্রাণুর ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখার প্রমাণ মিলেছে। জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য উন্নত করে এবং লাইকোপেন অক্সিডেটিভ ডিএনএ ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

এই প্রমাণের ভিত্তিতেই পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধির চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলেই মুঠোফোনকে দায়ী করা উচিত নয়। এর পেছনে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যাও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যথাযথ পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

.ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ আছে দেশেও, তবে যে কেউ কি চাইলেই তা করতে পারেন