ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে রোববার অন্য রকম ভিড়। কেউ পরিবার–পরিজন নিয়ে এসেছেন অনুষ্ঠান দেখতে, কেউ সঙ্গীদের নিয়ে সেলফি তুলছেন। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে। ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবসে সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীদের আসা–যাওয়া আর সংগীতের আয়োজনে চেনা অপেরা হাউস যেন পেয়েছে বাড়তি প্রাণ।
বিশ্বজুড়ে অনেকের কাছে অপেরা বলতেই সিডনি অপেরা হাউসের ছবি ভেসে উঠলেও এই মঞ্চশিল্পের জন্ম ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে। সেই শিল্পকে উদ্‌যাপনের দিনে সুর আর উৎসবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সিডনির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাও।

.

সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে পরিবেশিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান গ্রেট অপেরা হিটস। এতে শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি ও বিজের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি।

.

মিলনায়তনের ভেতরে পরিবেশনা আর বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়—দুইয়ে মিলে জমে ওঠে দিনের আয়োজন। আয়োজকদের একজন জানালেন (নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি), ব্রডওয়েতে প্রথম মঞ্চস্থের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে এসেছে মাই ফেয়ার লেডির এই আয়োজন। এর কেন্দ্রে ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের বদলে যাওয়ার গল্প। এলাইজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন, আর অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের ভূমিকায় ন্যাথানিয়েল পার্কার। প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে জুলি অ্যান্ড্রুজের নির্দেশনায় ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ভিত্তিতে। ‘আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট’ ও ‘উডন্ট ইট বি লাভারলি?’–এর মতো পরিচিত গান রয়েছে এতে। সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

.

বিশ্বখ্যাত দুই সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মদিন স্মরণে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের আলোচনার সূত্র ধরে ২০১৯ সালে যৌথভাবে দিবসটি পালন শুরু করে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো–আমেরিকা। নতুন দর্শকের কাছে অপেরাকে পৌঁছে দেওয়া এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
অপেরার গল্পে উঠে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো চেনা অনুভূতি। ভাষা আলাদা হলেও সেই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন নানা দেশের দর্শক। সুর ও গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের এই কাছাকাছি আসার বিষয়টিও সামনে আনতে চায় বিশ্ব অপেরা দিবস। আয়োজকদের মতে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি উদার হতে ভূমিকা রাখতে পারে এই শিল্প।

.

উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সামনে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যের মানুষদের অনিশ্চয়তার কথাও। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বহু অপেরাশিল্পী ও কলাকুশলী এখনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ায় পারিশ্রমিক না পাওয়া ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। অপেরাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে রোববার সিডনি অপেরা হাউসে কেটেছে এক ব্যস্ত, উৎসবমুখর দিন। নানা আয়োজনে মুখর এই প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন নানা দেশ ও বর্ণের মানুষ। ভাষা আর সংস্কৃতির ভিন্নতা পেরিয়ে তাঁরা একসঙ্গে উপভোগ করেছেন সুর ও অভিনয়ের রস। কেউ ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কেউ ফিরেছেন মঞ্চের মুগ্ধতা নিয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে রোববার অন্য রকম ভিড়। কেউ পরিবার–পরিজন নিয়ে এসেছেন অনুষ্ঠান দেখতে, কেউ সঙ্গীদের নিয়ে সেলফি তুলছেন। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে। ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবসে সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীদের আসা–যাওয়া আর সংগীতের আয়োজনে চেনা অপেরা হাউস যেন পেয়েছে বাড়তি প্রাণ।
বিশ্বজুড়ে অনেকের কাছে অপেরা বলতেই সিডনি অপেরা হাউসের ছবি ভেসে উঠলেও এই মঞ্চশিল্পের জন্ম ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে। সেই শিল্পকে উদ্‌যাপনের দিনে সুর আর উৎসবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সিডনির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাও।

.

সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে পরিবেশিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান গ্রেট অপেরা হিটস। এতে শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি ও বিজের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি।

.

মিলনায়তনের ভেতরে পরিবেশনা আর বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়—দুইয়ে মিলে জমে ওঠে দিনের আয়োজন। আয়োজকদের একজন জানালেন (নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি), ব্রডওয়েতে প্রথম মঞ্চস্থের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে এসেছে মাই ফেয়ার লেডির এই আয়োজন। এর কেন্দ্রে ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের বদলে যাওয়ার গল্প। এলাইজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন, আর অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের ভূমিকায় ন্যাথানিয়েল পার্কার। প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে জুলি অ্যান্ড্রুজের নির্দেশনায় ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ভিত্তিতে। ‘আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট’ ও ‘উডন্ট ইট বি লাভারলি?’–এর মতো পরিচিত গান রয়েছে এতে। সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

.

বিশ্বখ্যাত দুই সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মদিন স্মরণে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের আলোচনার সূত্র ধরে ২০১৯ সালে যৌথভাবে দিবসটি পালন শুরু করে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো–আমেরিকা। নতুন দর্শকের কাছে অপেরাকে পৌঁছে দেওয়া এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
অপেরার গল্পে উঠে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো চেনা অনুভূতি। ভাষা আলাদা হলেও সেই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন নানা দেশের দর্শক। সুর ও গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের এই কাছাকাছি আসার বিষয়টিও সামনে আনতে চায় বিশ্ব অপেরা দিবস। আয়োজকদের মতে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি উদার হতে ভূমিকা রাখতে পারে এই শিল্প।

.

উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সামনে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যের মানুষদের অনিশ্চয়তার কথাও। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বহু অপেরাশিল্পী ও কলাকুশলী এখনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ায় পারিশ্রমিক না পাওয়া ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। অপেরাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে রোববার সিডনি অপেরা হাউসে কেটেছে এক ব্যস্ত, উৎসবমুখর দিন। নানা আয়োজনে মুখর এই প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন নানা দেশ ও বর্ণের মানুষ। ভাষা আর সংস্কৃতির ভিন্নতা পেরিয়ে তাঁরা একসঙ্গে উপভোগ করেছেন সুর ও অভিনয়ের রস। কেউ ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কেউ ফিরেছেন মঞ্চের মুগ্ধতা নিয়ে।